ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজকার্য থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একটি যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় সমালোচনার মুখে তিনি সরে দাঁড়ালেন। গতকাল এক বিবৃতিতে অ্যান্ড্রু সরকারি সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের
ডিউক অব ইয়র্ক জানিয়েছেন, রানি এলিজাবেথ তাকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন। প্রত্যাশিত ভবিষ্যতের আশায় তিনি সরে দাঁড়ালেন। প্রিন্স জানান, প্রয়োজনে তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে যে কোনো তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, বন্ধু জেফরি এপস্টিইনের সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে গত কিছুদিন ধরে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে এবং এজন্য আমার পরিবারের কাজও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা চিন্তা করে আমি রাজকার্য থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলে রানি তাতে অনুমোদন দেন।
প্রসঙ্গত, যৌন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টিইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের এক আইনজীবী। জেফরি এপস্টিইনের অপরাধের শিকার হয়েছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকম কয়েকজনের প্রতিনিধিত্ব করা স্পেন্সার কুভিন বলেন, রাজকীয় এই ব্যক্তিত্ব তাদের অবমাননা করেছেন। সম্প্রতি বিবিসির নিউজ নাইট অনুষ্ঠানকে সাক্ষাত্কার দেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ওই সাক্ষাত্কারকে সমালোচকরা অনেকটা গাড়ির দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলেও সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সঠিক ছিল বলে মনে করেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এসব সমালোচনার মধ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর প্রতি নতুন করে আহবান জানানো হচ্ছে যেন তিনি মার্কিন ধনকুবের এপস্টিইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে খুলে বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে যৌন পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার শুরু হওয়ার আগে কারাগারে আত্মহত্যা করেন ৬৬ বছর বয়সী এপস্টিইন। গত কয়েক মাস ধরেই এপস্টিইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন উিউক অব ইয়র্ক।
