হে যুবক! জান্নাতের হুর তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। তুমি তোমার যৌবন কার পেছনে ব্যয় করছ? তুমি কি জান্নাতের হুর পেতে চাও?
যারা হবে উঠতি বয়সের যুবতী রমণী। তাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবাহিত থাকবে নবযৌবনের স্বর্গীয় সুধা। তাদের বক্ষদেশ হবে তোমার জন্য আয়না এবং তোমার বক্ষদেশ হবে তাদের জন্য আয়নাস্বরূপ। একবার তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে পুনরায় তাকালে তাদের সৌন্দর্য ৭০ গুণ বেড়ে যাবে। তাদের গাল হবে গোলাপ ও আপেলের মতো লালমিশ্রিত সাদা বর্ণের। গলায় পরানো থাকবে মণি-মুক্তার অলংকার। তাদের চেহারা সূর্যের মতো উজ্জ্বল চকচকে হবে। তারা যখন হাসবে, তখন তাদের মুখমণ্ডল থেকে বিজলির মতো আলোর চমক বের হতে থাকবে। জান্নাতবাসী একজন পুরুষ তার স্ত্রীর চেহারায় নিজের চেহারা দেখতে পাবে। যেমন আয়নায় নিজের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। মাংস ও পোশাকের ভেতরে আচ্ছাদিত হাড়ের মগজসমূহ বাইরে থেকে দেখা যাবে। আর তুমি কেশবিহীন, দাড়িবিহীন ও সুরমায়িত চক্ষুবিশিষ্ট ৩০ বছর বয়সি যুবকের মতো হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ জান্নাতের নারীদের বিশেষ রূপে সৃষ্টি করেছেন। তারা হবে চিরকুমারী ও সমবয়সের প্রেম-সোহাগিনী। জান্নাতের একজন হুর যদি দুনিয়ায় একবার দৃষ্টি দিত, তাহলে আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সুবাসে ভরে যেত, সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর প্রশংসা ও বড়ত্ব বর্ণনা করত, পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে তথা সমগ্র পৃথিবীটাকে সুসজ্জিত করে দিত, প্রতিটি চোখ সব জিনিস থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তার দিকে চেয়ে থাকত, সূর্যের আলোতে যেমন তারকারাজির আলো মিটে যায়, তেমনি তার চেহারার আলোতে সূর্যের আলো মিটে যেত। জান্নাতি মহিলার মাথার একটি ওড়নার মূল্য দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সব বস্তু থেকেও বেশি হবে।
জান্নাতের স্ত্রীদের তাদের স্বামীগণের পূর্বে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শও করতে পারেনি। যখনই তার দিকে তাকাবে, আনন্দে মন ভরে দেবে। যখন কথা বলবে, ছন্দময় মিষ্টি কথা দ্বারা হূদয় ভরে দেবে। জান্নাতের রুমসমূহে যখন তারা ঘুরাফেরা করবে, তখন তাদের আলোতে রুমগুলো আলোময় হয়ে যাবে। বেহেশতের অধিবাসী নারী-পুরুষগণ হবে একই বয়সের পরিপূর্ণ যুবক-যুবতী। তাদের চোখের রং হবে পরিষ্কার সাদার মাঝে কাকের কালো চোখের মতো কালো বর্ণের। তাদের শরীরের কোমলতা হবে বৃক্ষের কচি শাখা-পাতার ন্যায় নরম ও কোমল। তাদের শরীরের রং হবে প্রবাল ও পদ্মরাগের মতো উজ্জ্বল। জান্নাতে মুমিনদের জন্য রয়েছে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। তাদের বাইরের সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চরিত্রও হবে অত্যন্ত সুন্দর ও পূতপবিত্র। তারা হবে অন্তরের প্রশান্তি ও চক্ষু শীতলকারিণী। তারা হবে স্বামীদের কাছে অতি প্রিয় ও কোমলমতি।
জান্নাতের হুর যখন তার স্বামীর চেহারার দিকে তাকাবে, তখন তার হাসিতে জান্নাত আলোময় হয়ে উঠবে। যখন সে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে গমন করবে, তখন তার স্বামী দেখে বলবে—এই তো সূর্য তার কক্ষপথ ছেড়ে চলে এসেছে। যখন সে তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলবে, তখন কতই না সুন্দর হবে সেই কথোপকথন। যখন তার স্বামীর সঙ্গে আলিঙ্গন করবে, তখন কতই না সুন্দর হবে সেই আলিঙ্গন। যখন তাদের সঙ্গে মেলামেশা করবে, কতই না আনন্দময় হবে সেই মেলামেশা। পূর্ণিমার চাঁদের মতো রূপ ধারণ করবে তারা জান্নাতে। তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তারা কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। তাদের পেশাব-পায়খানা হবে না, থুথু ফেলবে না, নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। তাদের চিরুনি হবে সোনার চিরুনি। তাদের ধুনীর জ্বালানি হবে আগরের। তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি। জান্নাতের হুরগণ এক জায়গায় সমবেত হয়ে বুলন্দ আওয়াজে এমন সুন্দর লহরিতে গান গাইবে, সৃষ্টজীব অনুরূপ লহরি কখনো শুনতে পায়নি। তারা বলবে, আমরা চিরদিন থাকব, কখনো ধ্বংস হব না। আমরা হামেশা সুখে-সানন্দে থাকব, কখনো দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পড়ব না। আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকব, কখনো নাখোশ হব না।
হে যুবক! চিন্তা করে দেখ, দুনিয়ার পর্দাশীল সুন্দরী রমণী পেতে হলে কত কষ্ট করে নিজের চরিত্রের হেফাজত করতে হয়, আর জান্নাতের সেই হুর পেতে হলে কী করতে হবে? তুমি জান কি, হুরকে কাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে? জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা ঐ সব বান্দাদের জন্য হুর সৃষ্টি করছেন, যারা তাদের কামনা-বাসনা একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য বিসর্জন দেয় ( মিশকাত শরিফ ১০ম খণ্ড ৫৩৯৫, ৫৩৯৭, ৫৩৭৯, ৫৩৯৩, ৫৪০৯, ৫৪০৭, ৫৩৭৭ নম্বর হাদিস অবলম্বনে)।
লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
