তিন রাজাপক্ষের জমানায় ঘরে-বাইরে চাপে দিল্লি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১১

শ্রীলঙ্কার নতুন রাজনৈতিক জমানা নিয়ে যথেষ্ট হিমশিম খাচ্ছে নয়াদিল্লি। একদিকে চীন, অন্যদিকে দেশের ভেতরে তামিল আবেগ—এই দুটি বিষয়ই চাপ তৈরি করছে মোদি সরকারের ওপর।

গোতাবায়া রাজাপক্ষে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল চীন প্রশ্নে। প্রকাশ্যেই চীনের সমর্থন নিয়ে চলা এই রাজাপক্ষে পরিবারের সঙ্গে কূটনীতি এগোনোর ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে যে বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে গত কয়েকদিনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে। কিন্তু চীনের পাশাপাশি ভারতের অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে মাহিন্দা রাজাপক্ষের পুত্র তথা গোতাবায়ার ভাইপো নমল রাজাপক্ষে বোমা ফাটিয়েছেন তামিলনাড়ুর নেতাদের বিরুদ্ধে। বংশগতভাবে তামিলবিরোধী নমল বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার তামিলদের জন্য কুমিরের কান্না বন্ধ করুন তামিলনাড়ুর রাজনীতিবিদরা।’ এর পরে ভারতের ডিএমকে, এমডিএমকের নেতারা শুধু ক্ষোভই জানাননি, সংসদে বিষয়টি আলোচনার জন্য নোটিশও দিয়েছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এই অভ্যন্তরীণ তামিল ক্ষোভ সামলাতে বিবৃতি দিতে হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, সেই দেশের সরকার জাতীয় ঐক্য তৈরি করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে— এমনটাই আশা ভারতের। তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি গোটা দেশেরই প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠতে চাইছেন। কোনো জাত, সম্প্রদায় ও ধর্মের বিভাজন দেখা হবে না।’

কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, ঘরোয়া রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে গতকাল তামিলদের ‘সাম্য’, ‘ন্যায়’ এবং ‘সম্মানের’ কথা এভাবে জোর দিয়ে বলতে হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। আগামী ২৯ তারিখ গোতাবায়া আসছেন দিল্লি সফরে। তার আগে কূটনৈতিক পরিবেশ মেঘমুক্ত রাখার জন্য চেষ্টার কসুর করা হচ্ছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। গত কয়েক দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে গোতাবায়ার সঙ্গে চীনের সুসম্পর্কের কথায় ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক খতিয়ে দেখার বিষয়টিরও পরোক্ষে বিরোধিতা করেছে কেন্দ্র। মুখপাত্রের কথায়, ‘শ্রীলঙ্কা অথবা সেই অর্থে কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়।’