চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে শুল্ক আদায়ে মন্দা ভাব

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩০

দেশের শুল্ক আদায়ের অন্যতম উত্স চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে শুল্ক আদায়ে ধস নেমেছে। চলতি অর্থ বছরের (২০১৯-২০) জুলাই থেকে শুল্ক আদায়ে ক্রমাবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি বছর বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। যথারীতি চলতি অর্থবছরে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় সাড়ে চার মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঐ সময়ে যে শুল্ক আদায় হয়েছে, তা গত অর্থবছর একই সময়ের চেয়ে কম; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুল্ক আদায়ের এই মন্দাভাব অব্যাহত থাকলে গত বছরের সমপরিমাণ শুল্ক আদায়ও সম্ভব হবে কি না সন্দেহ। শুধু আমদানি খাত থেকে নয়, রপ্তানি খাত থেকেও শুল্ক আদায় আগের সময়ের তুলনায় কমে গেছে। তাই শুল্ক আদায়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঋণাত্মক অবস্থান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন ডিসেম্বর থেকে শুল্ক আদায় বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃক শুল্ক আদায়ে ধস নামার বিষয়ে কমিশনার ফখরুল আলম ইত্তেফাককে জানান, উচ্চ শুল্কের পণ্যসামগ্রীর আমদানি কমে গেছে। একইভাবে অনেক পণ্যের দাম বিশ্ববাজারে পড়ে গেছে। তাছাড়া সার্বিক আমদানিও কমে গেছে। জানা যায়, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণে আগের তুলনায় অবাধে পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সায় দিচ্ছে না। একইভাবে ব্যবসায়ীরাও দেশের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট পণ্যসমূহ আমদানি করছে। আবার পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের নিরুত্সাহিত হতে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে উচ্চ শুল্কের পণ্য অন্য শুল্ক স্টেশনে চলে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের আমদানিকারক ঢাকা আইসিডি কিংবা মোংলা কাস্টমসে পণ্য ছাড় করাচ্ছেন। আবার চালসহ অনেক ভোগ্যপণ্য আমদানি অতিমাত্রায় হ্রাস পাওয়ায় ওই সব পণ্য থেকে যে শুল্ক পাওয়ার কথা তা পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাণিজ্যিক আমদানি কমে গেলে শুল্ক কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বছর শেষে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পূর্বাপর বছরে নির্দিষ্ট পণ্যসমূহের আমদানির পরিমাণকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাছাড়া পরবর্তী বছর দেশে ওই ধরনের পণ্য আমদানি বাড়বে না কমবে, তা নিয়ে গবেষণাধর্মী বিবেচনা থাকা দরকার। কিন্তু দেশের আমদানি-রপ্তানির বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগের বছরের আদায়কে সামনে রেখে লক্ষ্যমাত্রাকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয় না বরং তা পরে সংশোধন করতে হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের গত ১৩ নভেম্বরে শুল্ক আদায়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওইদিন পর্যন্ত শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮৬০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি অর্থ বছরের ওইদিন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এ অর্থবছরে শতকরা হিসেবে কম হয়েছে ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আবার দেখা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১৫ হাজার ৬৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা; যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের একদিনের শুল্ক আদায়ের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, প্রতিটি সেকশনে শুল্ক আদায় ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। গত ১৩ নভেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রপ্তানি সেকশনসহ কাস্টমসের ২১টি সেকশন থেকে ওইদিন শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ১৬৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। শুধু একদিনে শুল্ক আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে ১৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা; যা শতকরা হিসেবে ৪৫ শতাংশ কম।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুল্ক আদায়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।