চরফ্যাশন সরকারি টী ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫২

দেশব্যাপী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চলমান ধারাবাহিক মূল্যায়নের নাম ‘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’ । এই ধারাবাহিক মূল্যায়নে দুইটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এক. এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি, দুই. ভিডিও চিত্র ধারণ। সম্ভাব্য নমুনা প্রশ্নের আলোকে মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য, স্মৃতিচারণ, সাহসিকতার গল্প নিয়ে শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে প্রতিবেদন এবং ভিডিও। আর এর মধ্যে বাছাই করা প্রতিবেদনগুলো দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিক্ষা বিষয়ক পাতা অনুশীলন-এ প্রকাশিত হবে ধারাবাহিকভাবে।  আজ চরফ্যাসন সরকারি টী ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেয়া  মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী মো, নুরুল ইসলাম মু.আব্দুল কবির মাস্টার এর সাক্ষাত্কার থেকে তৈরি করা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।

উপস্থাপনায়: জাহিয়া করিম ইকরা, আফসানা মিম, সায়মা জান্নাত, মেহেদী হাসান সাগর ও মুনিয়া। অর্থি, আদিবা, সুমাইয়া ও নন্দিতা।

ক্যামেরায়: মো. অহিদুজ্জামান ও মো. সাদাকাতুল ইসলাম, সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রধান শিক্ষক তানবীর আহমেদ সহযোগিতায়, বিদ্যালয়ের সহ:প্রধান শিক্ষক তাসলিমা বেগম। লিখিত প্রতিবেদন পাঠানোর ঠিকানা ই-মেইল: [email protected]  যোগাযোগ:০১৭১৪৭০৫৭২৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  কাছ থেকে দেখার ও সান্নিধ্যে আসার দূর্লভ সৌভাগ্য  আমার হয়েছিলো। তিনি ১৯৭৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর চর কুকরি মুকরি বানভাসি এবং বন্যার্ত লোকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য এসেছিলেন। ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু চরফ্যাশন কলেজ (বর্তমান চরফ্যাশন সরকারি কলেজ) মাঠে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন চরফ্যাশন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে  আমার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ। পৃথিবীর ১০ টি ভাষণের মধ্যে অন্যতম ও সেরা ভাষণ। সেই ভাষণটি আমি সরাসরি শুনেছি আমার ছোট একটি রেডিও সেটের মাধ্যমে। ভাষণটি ছিলো ‘ভাইয়েরা আমার, আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি’ এটা ছিলো সূচনা। এ ভাষণটি যে কোনো বাঙালি, দেশ প্রেমিক, স্বাধীনতাকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার, জাগ্রত করার এবং জীবনকে বাজী রেখে দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো একটি অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ  ছিলো। পৃথিবীর মধ্যে আব্রাহাম লিংকন, নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধী, এডওয়ার্ড, এডমন্ড বার্ক এদের ভাষণ আমরা শুনেছি  কিন্তু ইউনেস্কোর যে ঐতিহ্যের  দলিলে সংরক্ষিত আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণটি  আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।                            

মেধার বিকাশ ঘটে তাঁর বাল্যজীবন থেকে, তাঁর ছাত্রজীবন থেকেই প্রতিভার বিকাশ ঘটে। বঙ্গবন্ধু বিশাল প্রতিভা ও মেধার অধিকারী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন স্কুলের ছাত্র তখন তত্কালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে যান। বঙ্গবন্ধু এগিয়ে এসে অকপটে তাঁর স্কুল সংস্কারসহ নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরল তাঁদের সামনে, সেই ছেলেটিই পরবর্তীকালে কলকাতার ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধু জনপ্রিয় ছাত্রনেতায় রূপান্তরিত হন।

তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও ফজলুল হক সাহেবের মতো নেতাদের সামনে কথা বলা দুরূহ ছিলো সেখানে বঙ্গবন্ধু সাহসের সাথে কথা বলেছিলো। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের স্কুল ঘর দিয়ে পানি পরে, আমাদের স্কুলটি মেরামত করা দরকার, সেই জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। এটা বঙ্গবন্ধু বলেই বলতে পেরেছেন যেখানে শিক্ষকরা ছিলো তাঁরা বলতে পারতেন, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছিলেন তাঁরা বলতে পারতেন, কিন্তু সেটা বঙ্গবন্ধু একজন ছাত্রনেতা হয়ে সাহসিকতার সাথে বলেছিলেন। সেদিনই তারা বোঝতে পেরেছিলেন এই ছেলে একদিন জাতির নেতৃত্ব দিবেন এবং  তাঁর মধ্যে সেই প্রতিভা ছাত্রজীবন থেকেই ছিলো।  বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা এটা অন্য কারো সাথে তুলনা করার মতো নয়।   বাঙালী জাতীয়তাবাদ এবং যেই চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন এদেশের ত্রিশ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন, দু-লক্ষ মা বোন তাঁদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুুকে তাঁরা বুকে ধারণ করে, স্মরণ করেই তাঁর নেতৃত্বে  যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন।             

                সংক্ষেপিত