স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি)-এর আয়োজনে এবং এটুআইয়ের সহযোগিতায় সম্প্রতি এলজিডি অডিটরিয়ামে আয়োজিত হলো—স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সমন্বয়করণ ও ডিজাইন ল্যাবের সমাপনী অনুষ্ঠান। অনু্ষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সুদীপ্ত মুখার্জী। অনু্ষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম রোকসানা কাদের।
ডিজাইন ল্যাবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণের হাতের মুঠোয় সরকারের সকল সেবা পৌঁছে দিতে খুব শিগিগরই স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিজিটালাইজ করা হবে। এক্ষেত্রে পরিকল্পিত সকল সিস্টেম বাস্তবায়নে আমি আমার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব। দেশের উন্নয়নে সংশ্লিট সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমরা যদি একটি ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফরম নিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে আমরা খুব দ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে পারব। ‘মাই গভর্নমেন্ট অ্যাপ’ তৈরির কার্যক্রম চলছে এর মাধ্যমে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের সকল সেবা একটি অ্যাপের মাধ্যমে জনগণের হাতের মুঠোয় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে পরিচয় গেটওয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে সকল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নে জনগণের আইডি যাচাইয়ের পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর পাশাপাশি পেমেন্ট ডিজিটালাইজেশনের জন্যও কাজ করে যাচ্ছি আমরা। ইন্ট্রাঅপারেবল ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে সেবার ডুপ্লিকেশন হ্রাসে কাজ চলছে। ২০২১ সাল, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এতদসংক্রান্ত সার্ভিসসমূহকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১০০টি জনবান্ধব সেবা ডিজিটাল সার্ভিসে রূপান্তর করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবে মোট ১২৮টি সেবার ক্ষেত্রে (১৩টি জিটুবি, ৯১টি জিটুসি ও ২৪টি জিটুজি সার্ভিস) ১৪টি গ্রুপের পর্যালোচনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি প্ল্যাটফরমের বিষয় উঠে এসেছে। যার মধ্যে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ও মেইনটেনেন্স সিস্টেম, জিআইএস ম্যাপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ওয়াসা সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, রেন্ট ও লীজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, কেইজ ও লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং হোল্ডিং ও ইউটিলিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ মোট ১৩টি সিস্টেম উল্লেখযোগ্য। ডিজিটাল সার্ভিস রোডম্যাপ-২০২১ কর্মশালায় শনাক্তকৃত সিস্টেমসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য এটুআইয়ের ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর টিমের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৬ নভেম্বর থেকে ৬ দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব’ আয়োজন করেছে। এই ল্যাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ-কেন্দ্রিক সকল গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান পদ্ধতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সেবা প্রাপ্তির সময় ও খরচ এবং সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ বিবেচনায় আনা হয়েছে। সেবাপ্রাপ্তিতে নাগরিকদের সময়, অর্থ এবং যাতায়াত হ্রাসের লক্ষ্যে সেবা প্রদান পদ্ধতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেবাসমূহকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজাইন ল্যাব কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ৭৩ জন কর্মকর্তা, ১৫ জন সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সার্ভিস এনালিস্ট, ৮ জন এটুআইয়ের কর্মকর্তা এবং ১০ জন সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা অংশগ্রহণ করেন।
