যদিও ওয়্যারবিডিতে আমি পাইরেটেড সফটওয়্যার, মুভি এগুলো ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে বলি—কিন্তু আপনি হয়তো ঠিকই সেগুলো ডাউনলোড করে যাচ্ছেন! ভালো, আপনি একজন ইউজার আর আপনি যা ইচ্ছা করতে পারেন। কিন্তু এগুলো ওয়েবসাইটে নানান ধরনের ফাঁদ পাতা থাকে আর সেগুলো ফাঁদ সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া নিজের কর্তব্য মনে করেই আজকের এই আর্টিকেল লিখতে বসা।
আপনি কোন ডাউনলোড সাইটে প্রবেশ করেছেন তার পরে হঠাত্ করে ফোন ভাইব্রেশন দিয়ে উঠে, আর আপনার ফোনের মডেলের নাম দেখায় আর বলে আপনার ফোন এতগুলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, এক্ষুণি সেগুলোকে রিমুভ করার জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি পিসি থেকেও এগুলো সাইটে প্রবেশ করলে শো করে ফেক অ্যান্টিভাইরাস অ্যালার্ট, যেখানে আপনাকে বলবে আপনার পিসি এতগুলো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আর সেগুলোকে রিমুভ করতে এই সফটওয়ারটি ডাউনলোড করুন।
যেভাবে রক্ষা পাবেন
এদের এই কর্মকাণ্ডগুলো থেকে বাঁচতে হলে চলে যেতে হবে শুরুর দিকে; কীভাবে প্রথমত আপনি এদের শিকার হতে পারেন। বেশিরভাগ সময়ই আপনি এমন ধরনের ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হন কোন ওয়েবসাইটের পপআপ অ্যাড থেকে। দেখা যায়, ফ্রি ডাউনলোড সাইটগুলোতে গেলে বা কোন অ্যাডাল্ট সাইটে অনেক পপআপ খুলে যায়, এগুলোতে বিভিন্ন ম্যালিসিয়াস কনটেন্ট থাকে বা ম্যালিসিয়াস কুকিজ আপনার ব্রাউজারে ইন্সটল হয়ে যায়, এতে আপনার কম্পিউটারে ফেক ম্যাসেজসহ আপনার সকল তথ্যগুলো চুরিও হয়ে যেতে পারে। অনেকে আজকাল পপআপ অ্যাডগুলোকে ব্লক করার জন্য ব্রাউজারে অ্যাড ব্লক এক্সটেনশন ব্যবহার করেন, কিন্তু কিছু কিছু শক্তিশালী পপআপ রয়েছে যেগুলোকে অ্যাড ব্লকার ফিল্টার করতে পারে না। তাহলে এগুলো থেকে বাঁচার উপায়টা কি?
প্রথমত আমি সাজেস্ট করব, পাইরেসিং কন্টেন্ট ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন এমন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন যারা পেইড কনটেন্ট ফ্রি প্রদান করার অফার করে। অ্যাডাল্ট সাইটগুলো ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন। এরপরেও যদি আপনার এই সাইটগুলো ভিজিট করতেই হয় তবে ব্রাউজারে ইনকগ্নিটো উইন্ডো খুলে নিন, এতে পপআপ থেকে কোন কুকিজ ব্রাউজারে প্ল্যান্ট হতে পারবে না, এই মুডে ব্রাউজার উইন্ডো ক্লোজ করার সঙ্গে সঙ্গেই সকল ডাটাগুলো ব্রাউজার রিমুভ করে দেয়।
তাছাড়া বেশি সুরক্ষিত থাকতে গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করুন, এই ব্রাউজার সান্ড বক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে; অর্থাত্ কোনো ভাইরাস যদি ব্রাউজারে লোড হয়েও যায় সেটি শুধু ঐ ট্যাবটি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে বাকি সিস্টেমে ঐ ভাইরাসটিকে আসতে দেয় না। তাছাড়া অনলাইন ম্যালওয়্যারগুলো থেকে বাঁচতে অবশ্যই ভালো মানের এন্টিভাইরাস বা এন্টিম্যালওয়্যার প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন এবং নিজের উপস্থিত বুদ্ধির ব্যবহার করুন। কিছু পপআপ অ্যাডে অনেক চালাকির সঙ্গে আপনাকে আক্রান্ত করানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানে বলা থাকে, ‘আপনি জানেন কি, অ্যাডাল্ট সাইট ভিজিট করার পরে সেখান থেকে ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার আপনার সিস্টেমে চলে এসেছে? সেগুলো রিমুভ করতে অমুক টুল ইন্সটল করুন।’ আর এই টুলগুলোই হলো—আসল ভাইরাস।
আবার সবসময় এমনটা নাও হতে পারে, আগে আপনার সিস্টেমে স্ক্যামারদের নাম্বার শো করল পরে আপনি তাদের কল করলেন; স্ক্যামাররা কোথা থেকে আপনার নাম্বার জোগাড় করে আপনাকেই আগে কল করতে পারে এবং মাইক্রোসফট থেকে কল করেছে বলে মিথ্যাচার করতে পারে। আপনার সিস্টেমে তারা সমস্যা দেখতে পেয়েছে বলে ফিক্স করার জন্য রিমোট অ্যাক্সেস পেতে চাইবে, তারপর তারা বিভিন্নভাবে আপনাকে প্রতারিত করবে এবং আপনার কাছ থেকে টাকা বা তথ্য চুরি করে নেবে। এরকম টেক সাপোর্ট থেকে আসা কলগুলোকে সরাসরি ইগনোর করে দিন। আর এভাবে মাইক্রোসফট থেকে কখনোই টেক সাপোর্ট দিয়ে কল করা হয় না, আর আপনি জেনুইন উইন্ডোজ ব্যবহার না করলে আপনার কাছে তো কিয়ামত পর্যন্ত মাইক্রোসফট কল করবেই না।
