সিদ্ধান্তহীনতা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

 

সুজন ভাই অনার্স শেষ করেছে প্রায় বছর দুয়েক আগে। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি সারাদিন বিসিএসের জন্য পড়ালেখা করতেন। প্রথমবারের বিসিএস পরীক্ষায় তিনি প্রিলি ও লিখিত দুটোতেই ভালোভাবে পাস করে গেলেন। ভাইভার জন্য রাতদিন পড়ালেখা করেছিলেন। তিনি ভাইভা দিতে গেলেন। তারপর ভাইভাবোর্ডে প্রশ্নকর্তা একসময় সুজন ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাকে যদি বিসিএসে নতুন একটা অধিদপ্তরের জন্য ক্যাডারের পোস্ট খুলতে বলা হয়, তাহলে তুমি নতুন কোন ক্যাডারের জন্য পোস্ট খুলবে?’

—স্যার, সত্যি কথা বলব?

—নির্ভয়ে বলো।

—পেঁয়াজ ক্যাডারের জন্য নতুন পোস্ট খুলব।

এই উত্তর শুনে প্রশ্নকর্তা অবাক হয়ে গেলেন, ‘পেঁয়াজ ক্যাডার কেন?’

—স্যার, প্রতিবছরই কোনো একসময়ে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়। এখন এর দাম ২৫০-২৮০ টাকা কেজি। এই পেঁয়াজের জন্য অনেকের ডিম খাওয়া, সমুচা খাওয়া এবং মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আর ঝালমুড়িসহ অন্যান্য খাবারের কথা নাই বা বললাম।

—তোমাকে যদি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ ক্যাডার বানানো হয়, তাহলে কী করবে?

—প্রথমেই আমি আগে একটা সিল বানাব। সেখানে লেখা থাকবে ‘সুজন, বিসিএস পেঁয়াজ ক্যাডার, রেজি. নং :২৫০২৮০’। তারপর যারা আমার কাছে আসবে, তাদের কাগজপত্র সত্যায়িত করে দেব।

—তুমি কি শুধু কাগজপত্র সত্যায়িত করার জন্য পেঁয়াজ ক্যাডার হবে?

—স্যার, আমি তো পেঁয়াজ ক্যাডার হতে চাই না। আপনি বললেন বলেই আমি বললাম। আর এই ক্যাডার হলে আমি আর কীই বা করব? বাজার তো বড়ো নেতাদের হাতে।

—আচ্ছা, তুমি এখন যাও।

কয়েকদিন পর বিসিএসের গেজেট প্রকাশিত হলো। সেখানে সুজন ভাইয়ের নামও আছে। সুজন ভাই খুশি হয়ে তার প্রেমিকার বাড়িতে গেল। সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিল। প্রেমিকার বাবা সুজন ভাইকে বললেন, ‘তুমি কী করো?’

—আমি বিসিএস ক্যাডার।

—আমিও এতদিন চেয়েছিলাম যে, আমার মেয়ের বিয়ে কোনো বিসিএস ক্যাডারের সাথে দেব। কিন্তু এখন আমি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। আমার মেয়ের বিয়ে দেব পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর সাথে।

—বিসিএস ক্যাডারের থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কিভাবে বড় হলো?

—এই পেঁয়াজের দাম কমানোর জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কত বিসিএস ক্যাডার কাজ করতেছে কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে না। এখান থেকেই বুঝে নাও যে, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর কত ক্ষমতা।

সুজন ভাই মন খারাপ করে চলে এলেন। অনেকে বিসিএস ক্যাডার হতে না পারার জন্য প্রেমিকাকে বিয়ে করতে পারে না, আর তিনি বিসিএস ক্যাডার হয়েও পারলেন না!

আজকে সুজন ভাইয়ের চাকরিতে জয়েন করার ডেট। সুজন ভাই সকাল থেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন। মিয়ানমার থেকে সুজন ভাইয়ের এক বন্ধু পেঁয়াজের ব্যবসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। পেঁয়াজের ব্যবসা করলে খুব দ্রুত বড়োলোকও হতে পারবেন আবার প্রেমিকাকেও বিয়ে করতে পারবেন। অপরদিকে তিনি বহু বছর চেষ্টার ফলে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। এটাও সহজে হাতছাড়া করা যায় না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চলল কিন্তু সুজন ভাই এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন—পেঁয়াজ ব্যবসা করবেন নাকি বিসিএস ক্যাডার হিসাবে জয়েন করবেন!