স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়ার ৯৬ জন জলদস্যু, অস্ত্র কারিগর ও সন্ত্রাসী। এ সময় তারা ১৫৫টি দেশি অস্ত্র, ২৭৫ রাউন্ড কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জামও জমা দেয়। জেলা পুলিশের আয়োজনে আত্মসমর্পণ করা প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠের অনুষ্ঠানে সকালে প্রিজন ভ্যানে করে আনা হয় সেফহোমে থাকা আত্মসমর্পণকারীদের। এরপর তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন। অতীত জীবনের ভুল স্বীকার করে বক্তব্য রাখেন সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজদৌলাহ। অভিশপ্ত জীবন থেকে ফিরে মুক্ত জীবনের চিত্র তুলে ধরেন ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু নুরুল আমিন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন অস্ত্র কারিগর জাফর আলম, মহেশখালীর কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়া, তার বাহিনীর সদস্য মানিক, আয়াতুল্লাহ, আব্দুস শুকুর, সিরিপ মিয়া, একরাম, বশিরসহ ১৫ জন। কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আবুল, সোনা মিয়া, জমির উদ্দীনসহ ১৫ জন, নুনাছড়ির মাহমুদুল্লাহ বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলী, সেকেন্ড ইন কমান্ড বদাইয়াসহ ১৫ জন, ঝাপুয়ার সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজউদ্দৌলাহ, নলবিলার মুজিব বাহিনীর প্রধান মুজিবুর রহমান প্রকাশ শেখ মুজিব এবং কুতুবদিয়ার লেমশীখালীর কালু বাহিনীর প্রধান মো. কালু প্রকাশ গুঁড়া কালুসহ তার বাহিনীর ১৫-২০ জন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেন, যারা অপরাধ জগত্ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন, সরকার তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। যারা এখনো অপরাধে রয়েছেন, আপনারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। মুক্ত জীবনের আনন্দ যে কত বিশাল, সেটা বাস্তবে অনুভব করুন। অপরাধের প্রতি সরকার জিরো টলারেন্সের নীতি নিয়েছে। কেউই অপরাধ করে আর পার পাবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চট্টগ্রামের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার প্রমুখ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
