ফকির আলমগীর ৪৩ বছর ধরে নিজ প্রচেষ্টায় একটি সংগঠন পরিচালনা করছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটি সময়ের দাবি মিটিয়েছে। একই সঙ্গে বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করেছে। বাংলাদেশের গণসংগীতের ধারা সমৃদ্ধ করতে ঋষিজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ঋষিজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনেরা এভাবেই মূল্যায়ন করেন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর পথচলাকে।
গতকাল ঋষিজের দীর্ঘ ৪৩ বছরের এই পথচলা স্মরণ করলেন শিল্পীরা। বাংলাদেশের যে কোনো ক্রান্তিকালে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী তাদের গান দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। গণসংগীতকে অবলম্বন করে তারা ৪৩ বছর ধরে মানুষের বঞ্চনার কথা বলেছে। গানে গানে শুনিয়েছে মানুষের মুক্তির প্রেরণার মন্ত্র। গানে, আলোচনায় এবং দেশের পাঁচ গুণী শিল্পীকে সংবর্ধনা দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখল তারা। সেই সঙ্গে আগামীতেও গণমানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গণসংগীত গেয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ঋষিজের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি উত্সর্গ করা হয় প্রয়াত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মতিউল হক খান ও সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীকে।
শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে গতকাল শনিবার বিকালে এ অনুষ্ঠানে পাঁচ গুণীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। দেওয়া হয় ‘ঋষিজ পদক ২০১৯’। তার মধ্যে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা জানান আবদুল গাফফার চৌধুরীকে। এ ছাড়া নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় চার গুণীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। তারা হলেন অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিত্ ও অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যসচিব আব্দুল মালেক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন ঋষিজের সভাপতি শিল্পী ফকির আলমগীর। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী গুণীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র ও উত্তরীয় তুলে দেন। আবদুল গাফফার চৌধুরী বিদেশে থাকায় তার পক্ষে এই পদক গ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। এর আগে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। আলোচনা ও সম্মাননাপর্ব শেষে ছিল সংগীতানুষ্ঠান।
