মতলবে এতিমখানার ছাদ ধসে আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১৭

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি আল-আমিন এতিমখানা ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বর্তমানে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এছাড়াও ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর আহত মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়ামসহ তিন শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে স্কাউট শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন (৫২), শিক্ষার্থী সাব্বির (১৪), নাহিদ-১ (১২), আব্দুল্লাহ (১৩), নাহিদ-২(১২), আইনউদ্দিন (১৪), রিফাত (১৩), বিল্লাল (১২), সজিব (১৪), আব্দুল আজিক (১৫), সিহাব (১১), হোসাইন (০৯) ও ইব্রাহিম (১০)।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে ইমন (১৪), আবুল কাশেম (১৫), তানভীর (১৪), মাজহারুল ইসলাম (১৫), জয়নাল আবেদীন (১৬), ইসমাইল (১৪), আল-আমিন (১৩), মেহেদী হাসান (১৪), হাসিব (১৩), ইয়াছিন (১৫), রবিউল্লাহ (১৪)।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে সুজন মিয়া (১২), আকরাম (১৪), শাফায়েত (১৩), তামীম (১২), রাকিব (১৩), হাবিব (১৪), আজহারুল (১৪), আহমেদ (১৫), আরিফ (১৩), ফয়সাল (১২) এবং ইকবাল (১৩)।

ফরাজীকান্দি আল আমিন এতিমখানার আবাসিক কর্মকর্তা লিটন সরকার জানান, শনিবার রাতে এতিমখানা ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্কাউট শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন ছাত্রদের নিয়ে কথা বলছিলেন। এসময় বারান্দার ছাদের একাংশ ধসে পরে। মাদ্রাসার ছাত্র ও এলাকাবাসীর সহায়তায় আহত ছাত্রদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 

ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. নুরুল আমিন রুহুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দেখে এখানে নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। 

মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. ইসমাইল হোসেন ও হেফজ বিভাগের ছাত্র মো. আল হাসান বলেন, মাদ্রাসার এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি বসবাস করছি। ভবনটি পুরাতন হওয়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের নিয়মনীতি ছিল না। বসবাসের অনুপযোগী ৩ তলা ভবনটিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার খবর জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আহত শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ