বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) উত্তরাঞ্চলীয় প্রধানসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রসহ গ্রেনেড তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। শনিবার গভীর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার পাকুড়তলা এলাকা থেকে এই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হলেন, পুরোনো জেএমবির রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দাওয়াতি বিভাগের প্রধান আতাউর রহমান ওরফে হারুন ওরফে আরাফাত, জেএমবির রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বায়তুল বিভাগের প্রধান ও নওগাঁ জেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ওরফে নাহিদ ওরফে মোছাল, জেএমবির গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বশীল জহুরুল ইসলাম ওরফে সিদ্দিক এবং জেএমবির বগুড়া জেলার প্রধান মিজানুর রহমান। উদ্ধার করা সরঞ্জামাদি হলো—১ কেজি বিস্ফোরক, আটটি গ্রেনেড বডি, ১০টি গ্রেনেড তৈরির সার্কিট বডি, ১০০কে ৩০টি রেজিন্ট্যান্স, ১০০কে ১৫টি ক্যাপাসিটর, ২০টি চুনি বাল্ব, ১৫টি সুইচ, ৫টি ব্যাটারি, ১০টি ভেরো বোর্ড, ১৫টি লক কেব্ল ইত্যাদি।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা গতকাল রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে শনিবার রাত একটার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাকুরতলা বাসস্ট্যান্ডে জনৈক কনকের টেলিকম দোকানের সামনে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের পূর্ব পাশে অভিযান চালানো হয়। এসময় চার জনকে গ্রেফতার করা গেলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। তাদের শরীর তল্লাশি করে তিন রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গ্রেনেড তৈরির বিপুল সরমঞ্জাদি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আতাউর রহমান পুরোনো জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান। তিনি খোপাতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাব সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে। তিনি জানান, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হবে।
