প্রখ্যাত সংগীত গবেষক, সাহিত্যিক মোবারক হোসেন খান (৮১) আর নেই। গতকাল রবিবার ঘুমের ভেতরেই তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মোবারক হোসেন ১৯৩৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ একজন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং মাতা উমার উন-নেসা। তার চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ।
মোবারক হোসেন খাঁ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের বড়ো বোন সংগীতশিল্পী ফৌজিয়া ইয়াসমীনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে কন্যা রিনাত ফৌজিয়া সংগীতশিল্পী আর দুই ছেলে তারিফ হায়াত খান ও তানিম হায়াত খান।
তার মেয়ে অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়া খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তার বাবা। সঙ্গে ছিল বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা। গতকাল ভোরে স্ত্রী ফৌজিয়া ইয়াসমীন খেয়াল করেন, মোবারক হোসেন খানের শরীর নিথর হয়ে আছে। তার মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেমের হিমঘরে। ছেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোবারক হোসেন খান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মোবারক হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে। পরে তিনি বেতারের মহাপরিচালক হন। তিনি প্রথম জীবনে সংগীতবিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৮০ সালে শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রকাশ করেন তার প্রথম সংগীতবিষয়ক বই ‘সংগীত প্রসঙ্গ’। বিভিন্ন পত্রিকায় তার সংগীতবিষয়ক লেখা নিয়ে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় বই ‘বাদ্যযন্ত্র প্রসঙ্গ’। এরপর তিনি রচনা করেন ‘সংগীত মালিকা’। এই বইটিও প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। তিনি সংগীত ও শিশুবিষয়ক ৫০টির মতো গ্রন্থ রচনা করেন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৮৩ সালে একুশে পদক, সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে পেয়েছেন ‘কুমিল্লা ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক’, ১৯৯৪ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ২০০২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অনুবাদে ‘অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০০৮ সালে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া থেকে সংবর্ধনা পেয়েছেন।
