বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গতকাল রবিবার রামু সেনানিবাসের অধীনস্থ ৬, ৯ ও ২৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৬ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ১৩ ও ১৪ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টসমূহকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করেন। সেনাবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী তাকে অভ্যর্থনা জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ার বড় দুটি ক্যাম্পে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব।
সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্ত ইউনিটসমূহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৬, ৯ ও ২৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৬ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ১৩ ও ১৪ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টসমূহ প্রতিষ্ঠানলগ্ন হতেই ধারাবাহিক ও প্রশংসনীয় কার্যক্রম প্রদর্শনের মাধ্যমে রেজিমেন্টাল কালার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি যে কোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান এবং পবিত্র আমানত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্তব্যনিষ্ঠা স্বীকৃতিস্বরুপ প্রাপ্ত রেজিমেন্ট কালারের মর্যাদা এবং সেনাবাহিনীর প্রতি জাতির আস্থা অটুট রাখার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে ইউনিটসমূহ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও মাতৃভূমির অখন্ডতা রক্ষা ও জাতীয় যে কোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সকলকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসতে হবে। পরিশেষে সেনাপ্রধান রেজিমেন্টাল কালার প্রদান উপলক্ষ্যে একটি সুশৃঙ্খল, মনোজ্ঞ ও বর্ণিল কুচকাওয়াজ প্রদর্শনসহ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, প্রাক্তন সেনাবাহিনী প্রধানগণ, চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাগণ, অসামরিক প্রশাসনের আমন্ত্রিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
