পাথরকুঁচির পাতা ঔষধি গুণসমৃদ্ধ। ব্যবহার হয়ে আসছে অতি প্রাচীনকাল থেকে। এর আরেক নাম ‘আমলাকুঁচি’। সংস্কৃত নাম ‘পাষাণভেদী’। অন্য নাম ‘হিমসাগর’। হিন্দি নাম ‘পাথরচুর’। তামিল ভাষায় বলা হয় ‘কপরবল্লী’, তেলেগু নাম ‘পিন্ডিচেট্রি’ আর গুজরাটিরা বলে ‘ওভানপনি’। পাথরকুঁচির পাতাই রোগ দমনের মোক্ষম অংশ।
গুল্মজাতীয় ঔষধি উদ্ভিদ। দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হয়। গাছের ৬ থেকে ১০ ইঞ্চির পর থেকে পাতা গজাতে শুরু করে। পাতা গোলাকার। মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো। পাতার চারপাশে আছে ছোটো ছোটো গোল খাঁজ। এই খাঁজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়। মূল কাণ্ডের অগ্রভাগে গুচ্ছবদ্ধ নিম্নমুখী ফুল হয়। দেখতে ঝালরবাতির মতো। ফুলের ভেতরটা ফাঁপা। ফুল লম্বায় এক-দেড় ইঞ্চি হয়ে থাকে। ফুলের বাইরের দিকে সবুজ, লাল ও সাদা দাগ থাকে। শীতকালে ফুল ও গ্রীষ্মকালে ফল হয়।
সাধারণত পাথরকুচির পাতার মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করা সহজ। বর্ষাকালে মাটিতে পাতা রেখে পাতার মধ্যভাগে সামান্য মাটি দিয়ে রাখলে পাতার চারপাশ থেকে চারা গজায়।
শরীরে খোসপাঁচড়া, ফোঁড়া হলে ব্যথা হয়। এই ব্যথা সারাতে ব্যবহূত হয় পাথরকুঁচি। পাতা বেঁটে রস করে এক চামচ করে প্রতিদিন সকাল-বিকাল এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়। পুরোনো সর্দি-কাশিতে এই পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করে, গরম অবস্থায় তার সঙ্গে একটু সোহাগার খৈ মিশিয়ে ৩ চা চামচের সমপরিমাণ তৈরি করে নিতে হবে প্রথমে। পরে তা থেকে ২ চা চামচ সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে সর্দি ভালো হয়। শরীরের কোনো অংশ কেটে বা থেঁতলে গেলে পাথরকুঁচির টাটকা পাতা পরিমাণমতো নিয়ে হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেঁতলে যাওয়া জায়গায় সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। পাথরকুঁচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। পাথরকুঁচি পাতা বেঁটে ত্বকে লাগালে ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এটা পরীক্ষিত যে, পেটটা ফুলে গেছে—আটকা পড়েছে প্রস্রাব, আধোবায়ু সারছে না সেসব ক্ষেত্রে পাথরকুঁচির পাতার রস একটু চিনি মিশিয়ে গরম করে সিকি (এক-চতুর্থাংশ) কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে এক বা দুই চা চামচ খেলে খুব দ্রুত উপকার মেলে। শিশুর পেট ব্যথা নিশ্চিত হলে ৩০ থেকে ৬০ ফোঁটা পাথরকুঁচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়। বিষাক্ত পোকা কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। মৃগী রোগে রোগী মুর্ছা গেলে সঙ্গে সঙ্গে এ পাতার রস ২ থেকে ১০ ফোঁটা রোগীর মুখে দিতে হয়। রোগীর পেটে রস গেলেই রোগের উপশম। শরীর জ্বালাপোড়া করলে পাথরকুঁচির পাতার রস তাত্ক্ষণিক কাজ করে। এ রকম অবস্থায় পাঁচ-সাতটা বয়স্ক পাথরকুঁচির পাতার রস আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু’বেলা কয়েকদিন খেলে উপকার মেলে। পাথরকুঁচির পাতা কিডনি এবং গলব্লাডারের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুই বার দু-তিনটি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খেতে হয়।
