চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অন্তত ১ হাজার ২৫৩ জন নারী। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫১ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬২ জনকে। ধর্ষণের এমন রোমহর্ষক পরিসংখ্যান তুলে ধরে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘ধর্ষণ ও সকল যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা’ ব্যানারে প্রতীকী অনশন করেছেন নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি সংগঠন। এতে অংশ নিয়েছেন মানবাধিকার, নারী অধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যরা। অনশনে অংশ নেন ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবির, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্যাতনের শিকার নারী, সড়ক পরিবহনে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার সিরাজগঞ্জের রূপার ভাই, ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে মৃত পিংকির পরিবার, আশুলিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিহত সাতক্ষীরার মুক্তির ভাই, দিনাজপুরে মৃত আঁখি মনির বাবাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। আয়োজকরা বলছেন, সম্প্রতি দেশে নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ এবং সকল প্রকাশ যৌন সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রক্ষা পাচ্ছেন না প্রতিবন্ধী নারী, মেয়ে এমন কি ছেলেশিশুরাও। তারা ঘরে-বাইরে, রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণ চেষ্টা ও নানা ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কর্মসূচিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের মানসিক অবস্থা এমন হয়েছে যে, বিচার চাইলেও পাব না। আমরা বিভিন্ন সময় এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি, কিন্তু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এর প্রধান কারণ, আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছি। ঘটনা ঘটার পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বললে বিচার হবে, না বললে হবে না। এজন্য অনেক সময় বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে বলতে হয়— ‘বিচার চাই।’
এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিতরণ করা লিফলেটে ৯টি জাতীয় পত্রিকার খবরের ওপর ভিত্তি করে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, এ ছাড়াও এই ১০ মাসে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ২০০ নারী, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২২১ নারী, আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন, ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছেন তিন নারী ও দুই পুরুষ, ধর্ষণের শিকার ৭৬৭ শিশু, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৩৫ শিশুকে এবং যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৮০ মেয়েশিশু এবং ২৬ ছেলেশিশু। প্রতীকী অনশন শেষে উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা বন্ধ করা, দ্রুত ও ন্যায্য বিচারের জন্য বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
