নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কাজের ওপর চার নির্বাচন কমিশনারের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার একদিন পর ইসি সচিবালয় পালটা যুক্তি দেখিয়েছে। তাদের বক্তব্য সংবিধান, আইন, বিধি ও নিয়মকানুন মেনে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালি বিধিমালা সমর্থন করে না। অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে সোমবার বিকালে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চার নির্বাচন কমিশনারের সব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি যে নির্বাচন কমিশনারদের এখতিয়ারে নেই, তার আইনি ব্যাখ্যা দেন তিনি। সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
সম্প্রতি কমিশনের ৩৩৯ জন কর্মচারী নিয়োগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সচিবালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে চার কমিশনারকে অবহিত না করার অভিযোগ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে ইউও নোট দেন কমিশনাররা। ইউও নোটে তারা উল্লেখ করেন, সচিবালয় এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে; যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গতকাল নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে; কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে আমি সংবাদ পাই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ সিইসি অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা প্রদান করা হয়, তার কোনো হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। এমনকি নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরনও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, ইসি সচিবালয় ঐ নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত ও অর্থ ব্যয় সম্পর্কিত বিষয়ে কমিশনকে কোনো পর্যায়েই অবহিত করেনি। জানতে চাইলে সচিব জানান, উল্লিখিত নিয়োগ বা এতদসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। সিইসিও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ ২৪ নভেম্বর সিইসির কাছে একটি ইউও নোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যাদির বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চান। আমি মনে করি, অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়। এই অনভিপ্রেত অবস্থার অবসানের জন্য নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালি বিধিমালা কঠোরভাবে পরিপালন করা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি : ইসি সচিব
কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারদের ‘অবগত’ করার বিষয় নয় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর দাবি করেন, শতভাগ আইনসম্মতভাবে ও স্বচ্ছভাবে কাজ হয়েছে। সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
