ছাতিম তলায় হেমন্ত উত্সব

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪২

  সোহাগ মনি

                                                                                                       

ষড়ঋতুর এই দেশ, একেক সাঁজে সাঁজিয়ে যায় মানুষের হূদয়। প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানুষ গুলো সব ঋতুতেই খুঁজে পায় জীবনের স্পন্দন। হেমন্ত, ষড়ঋতুর এই দেশে চতুর্থ ঋতু। এই হেমন্তই মানুষের হূদয়কে জানিয়ে দেয় শীতের আগমনী বার্তা। হেমন্তকে বরণ করে নেয়ার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেন অপেক্ষায় ছিলো দীর্ঘদিন। অবশেষে সেই হেমন্তের আগমন, আর সেই সাথে উত্সবে মেতেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

কৃত্তিকা আর আদ্রা তারার নাম থেকেই কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাসের নাম,আর এ দুই মাসের মিতালীতেই হেমন্ত। হেমন্তের সাথে ছাতিম ফুলের সম্পর্ক যেন প্রিয়তম-প্রিয়তমার। ছাতিমের গন্ধই জানান দেয়, হেমন্তের কথা। তীব্র সুভাস ছড়ানো এ গাছের তলায় যেন হেমন্ত ঋতু বলে যায় তার গল্প। আর এমনি এক জায়গা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাতিম তলা।

ছাতিম তলায় হেমন্ত উত্সবের গল্পটা একটু ভিন্ন। প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষক আলী আহসান দীর্ঘদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ছাতিম গাছের খোঁজ করছিলেন। একদিন ঘোষণা দিলেন ক্যাম্পাসে ছাতিম গাছ বের করে যে সবচাইতে সুন্দর ছবি তুলে দিতে পারবে তার জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় কিছু জিনিস, হেমন্ত উত্সবে জাঁকজমকভাবে প্রকাশ করা হবে নাম! শুরু হয়ে গেলো প্রতিযোগিতা, একেক জন একেকভাবে ছবি তুলে টাইমলাইনে ঝড় তুলছেন! কে কত ভালো ছবি উঠাতে পারে এ নিয়ে চললো কিছুদিন যুদ্ধ। অবশেষে সেই হেমন্ত উত্সবের আয়োজন, ক্যাম্পাসের ছাতিম তলায়। পাঞ্জাবি আর শাড়ীর বাহারে শিক্ষার্থীরা সেঁজেছেন সাথে সাঁজিয়ে তুলেছেন ক্যাম্পাস। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার মুহূর্তে বিভাগের সব শিক্ষক ও নিজেদের রাঙ্গিয়েছেন হেমন্তের রং-এ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাতিম তলা পরিনত হলো হেমন্তের মিলন মেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ও উপভোগ করছিলো এই আয়োজন।

শিক্ষক আলী আহসান তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। ছাতিম আর হেমন্তের সংযোগ নিয়ে জানান তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা এই ক্যাম্পাসে হেমন্ত উত্সব আয়োজন করেছি, শুধু এই ক্যাম্পাস নয়, সমসাময়িক কালে সারা বাংলাদেশে আমরাই হয়তো এমন ভিন্নতার পরিচয় দিয়েছি, আমি মনে করি হেমন্ত উত্সব সারা বাংলাদেশ এ হওয়া উচিত’।

কবিতা আর গানের তালে হেমন্তকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিলো শিক্ষার্থীরা। হেমন্তের কবিতা, নবান্নের কবিতা, সব কিছু মিলে নতুন একটি ধারার সূচনা করে সাংবাদিকতা বিভাগ। ক্যাম্পাসের সবার মনে প্রশ্ন, এ কেমন আয়োজন? এমন আয়োজন তো কখনো চোখে পড়েনি এর আগে। একের পর এক প্রশ্ন সবার চোখে মুখে। ফটো সেশনের ও যেন কমতি নেই,সবাই সবার সাথে ছবি তুলার উত্সবে ও মেতেছেন।