n ফাহমিদা শাহেদ
দেশ, মা, মাটি, মানুষের প্রতি তার খুব মায়া। ছোটোবেলা থেকেই দেশীয় সংস্কৃতি, পণ্য তাকে খুব টানত। তাই ব্যবসা করার কথা যখন ভাবলেন। তখন দেশীয় পণ্যকেই বেছে নিলেন। বিদেশি গর্জিয়াস পোশাকের ভিড়ে তার রুচিশীল দেশীয় পোশাক ক্রেতাসন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বলছিলাম ফাহমিদা সাহেদের কথা। তিনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইনস্টিটিউট অব মেরিন সাইন্সে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন। দুই কন্যাসন্তানের জননী। পাশাপাশি একটি স্কুলে ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। পড়াশোনাকালীন ফাহমিদার বিয়ে হয়ে যায়। ভালো বিষয়ে পড়াশোনা করা সত্ত্বেও সংসার, বাচ্চাদের দেখার জন্য ৯টা-৫টার চাকরি তার করা হয়ে ওঠেনি। ফাহমিদা বলেন, বাচ্চারা একটু বড়ো হওয়ার পর গত দুই বছর আগে শুরু করলাম এই অনলাইন বিজনেস, যাতে যদ্দুর সম্ভব সংসারে সময় দিয়ে কাজ করতে পারি। বিভিন্ন তৈরি পোশাকের মেলায় ফাহমিদা অংশ নেন। তার এই কাজে পরিবার সহায়তা করে বলে তিনি জানান। মেলায় বেশির ভাগ থাকে বিদেশি পণ্য। তবে এর মধ্যে রুচিশীর ক্রেতারা তার দেশীয় পণ্য বেছে নেন।
ফাহমিদা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাঁতিদের কাছ থেকে প্রোডাক্ট কালেক্ট করেন। তার মতে, তাঁতশিল্প সর্বোপরি তাঁতিরা দেশের অমূল্য সম্পদ। এদের সংরক্ষণ করা উচিত। আর আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তাঁত কাপড়েও ভিন্নতা আনা যেতে পারে। নিজের ডিজাইনে তৈরি পোশাক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেবেন। এটাই তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, বর্তমানে গ্লোবালাইজেশনের যুগে বিদেশি পণ্য তো দেশে আসবেই এবং সেসব আমরা কিনবও। কিন্তু সেটা আমাদের দেশি পণ্যকে অবহেলা করে নয়। সবাই বেশি বেশি দেশি পণ্য ব্যবহার করি, দেশকে ভালোবাসি। মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়ই না হয় মাথায় তুলে নিই।
n ফারজানা ফেরদৌস
নিজ থেকে কিছু করার তার ছোটোবেলা থেকেই আগ্রহ। পরিবারের সবাই প্রতিষ্ঠিত। পারিবারিক কাজে তারা সাধ্যমতো অংশ নেয়। ঈদে একে অন্যকে পোশাক উপহার দেয়। ছোট্ট ফারজানার ইচ্ছে হয় সবার জন্য উপহার কেনার। ফারজানা বলল, আমার মনে হতো কবে আমিও এভাবে সবার জন্য উপহার কিনতে পারব। বরিশালের মেয়ে ফারজানা ফেরদৌস। একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনি এখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। বাবা এস এম দেলোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল। মা, মিসেস রাশিদা আকতার গৃহিণী। ফারজানার অনলাইন প্রতিষ্ঠানের নাম দাঁড়কাক।
অনলাইনে ব্যবসা শুরু সম্পর্কে ফারজানা বলেন, ২০১৭-এর রোজার মধ্যে আমার পরিচিত একজন আপু কিছু পোশাকের ছবি দিয়ে বলেন, সেগুলো বরিশালে চলবে কি না? তো সে অনুযায়ী আমি ব্যক্তিগত আইডি দিয়ে মেসেজ করি এবং খুব ভালো সাড়া পাই। এরপর ছোটো ভাই ফেসবুকে পেজ খুলে দেয়। দাঁড়কাক নামটাও তারই দেওয়া। দাঁড়কাক নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাক’ পাখিটি আমাদের কাছে অনেকটা অস্পৃশ্য, কারণ এর গায়ের রং। তেমনি আমাদের সমাজে কালো রং অবহেলার পাত্র, সবাই সুন্দর বলতে শুভ্র যে কোনো কিছুকেই নির্দেশ করে। তাই এই কালোর আড়ালে ভালো পণ্য সংগ্রহে রেখে এটাই বলতে চেয়েছিলাম, কালো মানেই অসুন্দর নয়। কালো বা কাক নিয়ে মানুষের গতানুগতিক চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম এই নামকরণের মাধ্যমে।
শাড়ি, চাকমা তামি কাপড়ের নানা ধরনের ব্যাগ, পোশাক, চাদর, মণিপুরি জুম শাড়ি, তাতের সালোয়ার-কামিজ, তাতে জামদানিসহ দেশীয় বুননে করা শাড়ি, ক্যানভাস টিপ, ব্লাউস, নানা ধরনের মাত্র ইত্যাদি, মেটাল গয়নাও ফারজানার অনলাইন শপে পাওয়া যায়। খুব শিগিগরই ছেলেদের পাঞ্জাবিসহ অন্যান্য পণ্য আসছে বলে তিনি জানান। অনলাইনে ছবি দেখে পণ্য ক্রয় করা হয়। ছবির সঙ্গে পণ্যের মিল না থাকলে কী করেন, এ প্রশ্নের জবাবে ফারজানা বলেন, আমাদের যেহেতু অনলাইন বেইসড শপ, তাই হাতে ধরে দেখার সুযোগ কম। এক্ষেত্রে আমরা ছবি যথাসম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে ৯৯ শতাংশ একই রকম হয়। আর অন্যথা হলে আমরা সেটা ফেরত নিয়ে পালটে দিই। দুটি পিক আপ পয়েন্ট আছে, যেখান থেকে গ্রাহক কোনো রকম খরচ ছাড়াই পণ্য সংগ্রহ করতে পারে। এছাড়া হোম ডেলিভারিও দেওয়া হয় বরিশালসহ সারাদেশে জানালেন ফারজানা। ৫০০ টাকার কম মূল্যের পণ্য হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি দেওয়া হয়।
