মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মূলত একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য মানসিক গড়নের গাঁথুনি তৈরি হয়। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়েই যেন একজন শিক্ষার্থীর বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ঢেলে সাজানো দরকার। এক্ষেত্রে পাবনা শহরের রাধানগর মক্তবপাড়াস্থ নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পারে অনন্য দৃষ্টান্ত। ৯ জন শিক্ষক এবং ৪৩৮ জন শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে সবার জন্য চালু রয়েছে ডিজিটাল হাজিরা। প্রত্যেকটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য রয়েছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আছে বিভিন্ন ক্লাব।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত আধুনিক শিক্ষার ভিত তৈরি করতেই এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।
বিদ্যালয়টিকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে যতগুলো কার্যক্রম চালু করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘গুগল কক্ষ’। সম্প্রতি এ বিদ্যালয়ে ‘গুগল কক্ষ’ উদ্বোধন করা হয়। কক্ষটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য তথ্য জাদুঘর হিসেবে কাজ করছে। দেশ-বিদেশের কোনো ঐতিহাসিক স্থান শিক্ষার্থীদের দেখানো এবং নতুন কোনো তথ্য জানতে তারা গুগলের সহায়তা নিতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষার্থীদেরকে আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক এবং চারুকলা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি এবং ভাষা সম্পর্কে শিক্ষা দান করা হয়।
বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ছবিসহ মাদার তেরেসার কক্ষ, ছেলের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লেখা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবিসহ ঐতিহাসিক সেই চিঠি, ছবিসহ কম্পিউটারের আবিষ্কারক চার্লস ব্যাবেজ কক্ষ, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু কক্ষ বিজ্ঞানাগার (প্রক্রিয়াধীন)। বিদ্যালয়ে আরো আছে সিটিজেন চার্টার। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সেবার নাম, সেবা প্রদানের পদ্ধতি এবং পরিশোধ পদ্ধতি জানতে পারে।
