সেন্টমার্টিন ঘুরতে গিয়ে ফিরল ৩৪ বস্তা বর্জ্য নিয়ে!

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৭

>>  মাহবুব নাহিদ

 

পর্যটন শিল্পে আমাদের সম্পদ অনেক থাকলেও ব্যবস্থাপনা বা যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি। সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ি আমরা যেভাবে একটা পর্যটন এলাকায় গিয়ে সেই এলাকার ক্ষতিসাধন করি তার কারণে। একটা নতুন ঘোরার জায়গা বের হলে সেখানে মানুষের ঢল নামে। কিন্তু তার পাশাপাশি সেই ভ্রমণ এলাকা পরিণত হয় ময়লা-আবর্জনার স্তূপে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুদের একটা আস্থার জায়গা ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি)। এটি ভ্রমণ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ পাওয়ার জন্য দারুণ একটা ফেসবুক গ্রুপ। ১০ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু আছে এই গ্রুপে। এই গ্রুপেরই কিছু সদস্য মিলে কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ঘুরে এলো। তারা শুধু ঘুরেই আসেননি। নিয়ে এসেছেন ৯৪ বস্তা প্লাস্টিক গার্বেজ। ৩৯ জন ভ্রমণ পিপাসু মিলে ৩ দিন ধরে সেন্টমার্টিনে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করেন। এরা ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ গ্রুপের ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সদস্য। তাদের মধ্যে ছিলেন ৬ জন নারীও। তারা ৩ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ করেন সেন্ট মার্টিনে। ৯৪ বস্তা অপচনশীল বর্জ্য নিজেরাই বহন করে নিয়ে আসেন ট্রলারে। ট্রলারে করে নিয়ে আসেন সেন্ট মার্টিন, এসে ওজন করে দেখেন ৫৫৫ কেজি। দিয়ে দেন ভাঙারির দোকানে। এই অভিযান সেন্ট মার্টিনে তারা গত বছরও চালিয়েছেন। ২০১৮ সালের ৫ থেকে ৭ অক্টোবর ৫৫ জন মিলে ১৪৪ কেজি প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করেন তারা। কথা হলো গ্রুপের একজন সদস্য তানভীর মৃদুলের সঙ্গে। তিনি জানালেন এর পিছনের গল্পটাও। সাধারণত ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) গ্রুপের কাজই হচ্ছে মানুষের ভ্রমণে কাজে আসে এমন কিছু তথ্য প্রদান করা, নতুন নতুন ঘোরার জায়গা খুঁজে বের করে তা সবাইকে জানানো। ২০১২ সালে তাদের গ্রুপেরই এক সদস্য মৌলভীবাজারের হাম্মাম জলপ্রপাত ঘুরে এসে একটি ব্লগ লেখেন। সেই ব্লগ ছাপা হয় একটি পত্রিকায়ও। তার সেই ব্লগ ও নিউজের প্রেক্ষাপটে আলোড়ন তৈরি হয় পুরো দেশজুড়ে। অখ্যাত সেই জলপ্রপাত সম্পর্কে জেনে যায় পুরো দেশের মানুষ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই জায়গা হয়ে যায় প্লাস্টিকের বোতল আর চিপসের প্যাকেটের স্তূপ। হয়তো কোনো না কোনোভাবে মানুষ এই জায়গা সম্পর্কে জানত তবে তাদের মাধ্যমে জানার কারণে তাদের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে। তারা দায়িত্ব নেয় সেখানের বর্জ্য পরিষ্কার করার। এরপরে প্রতি বছরই দুই একটা করে অভিযান চালায় তারা। সেন্ট মার্টিন আমাদের দেশের অনেক বড়ো একটি সম্পদ। কিন্তু দিনদিন দূষিত হয়ে উঠছে আমাদের প্রিয় প্রবাল দ্বীপ। তারা জানেন যে যতটুকু বর্জ্য তারা পরিষ্কার করেছেন, তা শতকরা ৫ ভাগও নয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শুরু হোক ব্যাপকভাবে এটাই তাদের কাম্য। আর সকলের মাঝে সুবুদ্ধির উদয় হোক যেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যটন এলাকা নোংরা না করে। আমরা নিজেরা নোংরা না করার পাশাপাশি প্রত্যেকেই যদি দায়িত্ব নিয়ে অন্তত একটি করেও আবর্জনা পরিষ্কার করি তবে সেটাও আমাদের পর্যটন এলাকার জন্য সুখকর কিছু বয়ে আনবে।