রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট এলাকা থেকে আটককৃত ৩ জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে পদ্মায় মাছ শিকার করতে গেলে তাদের আটক করা হয়। তবে বিকালে মীরগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনেন।
আটককৃত ৩ বাংলাদেশি জেলে হলো, বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ বাবু (২২), চারঘাটের রাওথা গ্রামের ইয়াজ মণ্ডলের ছেলে এনামুল হক (৪৫) ও একই গ্রামের সাজদার রহমানের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৩৫)। পদ্মায় মাছ শিকার করতে গিয়ে তারা ভারতীয় সীমান্তের মধ্যে মাছ ধরছিল বলে দাবি করেছে বিএসএফ।
আটককৃতদের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, বাঘা ও চারঘাট সীমান্তের মীরগঞ্জ ও রাওথার পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে মাছ ধরতে যায় তিন জেলে। এ সময় ভারতের মর্শিদাবাদ জেলার জলংগী থানার খাসমহল ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে। পরে মীরগঞ্জ ক্যাম্পের বিজিবি ও খাসমহল ক্যাম্পের বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এ বৈঠকে আটককৃতদের বিকাল ৪টার দিকে বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মীরগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিএসএফ সকাল সাড়ে ৯টায় একটি ম্যাসেজ দেয়- ভারতের সীমান্তের মধ্যে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের কারণে ৩ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করা হয়েছে। তারপর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিকালে ফিরিয়ে আনা হয়।’
আরও পড়ুন: রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স হাতাহাতি,পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও
এ দিকে এ ঘটনার ৩ দিন আগে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের তছির উদ্দিনের ছেলে এরাজুল ইসলাম ও মৃত মিনু মন্ডলের ছেলে সুমন আলীকে (২৩ নভেম্বর) শনিবার সকাল ১১ টার দিকে বাঘা উপজেলার সীমান্তের হরিরামপুর পদ্মা নদীর ২ নম্বর কলোনীর চরে কাশবন (খড়) কাটতে গেলে আটক করে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলংগী থানার দয়ারামপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা।
এ বিষয়ে সুবেদার আবদুল মান্নান বলেন বলেন, বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী বিজিবি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিএসএফের প্রতিনিধি দলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই দুই শ্রমিকের বিষয়ে কোন সাড়া দেয়নি।
ইত্তেফাক/এএএম
