মঠবাড়িয়ায় বলেশ্বরের ভাঙন
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
মঠবাড়িয়ায় বলেশ্বর নদ তীরবর্তী বড়মাছুয়া মোহনা বেড়িবাঁধ হুমকিতে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট, স্টিমারঘাট বাজার এলাকা, দোকান এবং বসতি।
বলেশ্বর নদের বড়মাছুয়া ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজারের বেড়িবাঁধের অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে মোহনা লাগোয়া লঞ্চঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুতের খুঁটি হুমকিতে রয়েছে। বড়মাছুয়া বাজার থেকে কাটাখাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।
বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজারের মত্স্য আড়তদার ফারুক তালুকদার জানান, টানা ২৫ বছর ধরে বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, তুষখালী মোহনা থেকে সাপলেজা বলেশ্বর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বালু উত্তোলন করায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়েইে চলেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইয়ুম হোসেন জানান, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট ও বাজারের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতিসহ একটি পাকা মসজিদ ও যাত্রী ছাউনি এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে, আবারও স্টিমারঘাট ও দোকান সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার পথে। বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার থেকে কাটাখালী দুই কিলোমিটার ব্লক নির্মাণ জরুরি।
বড়মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাছির হাওলাদার জানান, বলেশ্বর নদের ভাঙনে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার ও স্টিমারঘাট এলাকা এখন বিলীনের দিকে। ভাঙনে বেড়িবাঁধ এখন হুমকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে জনবসতি আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে বিপন্ন লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট বাজার দুটিও। বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় নদী তীরে ব্লক নির্মাণ জরুরি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বালী বলেন, ভাঙনকবলিত বলেশ্বরের বড়মাছুয়া মোহনা সরেজমিনে সম্প্রতি পরিদর্শন করা হয়েছে। ঐ স্থানে ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণ করা জরুরি। এছাড়া বলেশ্বরের ভাঙন রোধে অন্তত সাত কিলোমিটার অংশে ব্লক নির্মাণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি সার্ভে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিজাইন প্রস্তুত করে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
