দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের নিকলীর নয়াহাটি ও পুকুরপাড় এই দুই গ্রামের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম কবরস্থান। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সেখানে থাকে শীতের অতিথি পাখির কলতান। গোধূলির রক্তিম রঙ ডানায় মেখে কলতানে নীড়ে ফেরে ঝাঁকেঝাঁকে পানকৌড়ি ও বক। দিনের ক্লান্তি শেষে দল বেঁধে তারা অবস্থান নেয় পশ্চিম কবরস্থানে।
মানুষ আর পাখপাখালির এমন মিলেমিশে বসবাস সচরাচর চোখে পড়ে না। নিকলীতে পাখিদের সুখের এই নীড় গড়ে উঠেছে দেড়যুগ আগে। কথা হয় পুকুরপাড় গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি কবরস্থান ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, দশ-পনের বছর আগে এই কবরস্থানের কয়েকটি কড়ইগাছে কিছু পানকৌড়ি ও সাদা বক এসে বসে। পানকৌড়ি, সাদা বক ছাড়াও শামুকভাঙা, শালিক, ঘুঘু, দোয়েল, চড়ুই, টুনটুনি ছাড়াও অচেনা অনেক পাখি এখন আসে। কবরস্থানের আটটি কড়ইগাছে পাখিদের স্থানসংকুলান হয় না। তাই আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির আম, জাম, নারকেল গাছেও ছড়িয়ে পড়েছে পাখিরা।
নয়াহাটি গ্রামের শাহাবউদ্দিন জানান, শুধু গাছে নয়, ঝড়-তুফান হলে পাখিগুলো বসতঘরে ঢুকে পড়ে। তখন এদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শীতে বকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রাম দুটি থেকে অল্প দূরেই হাওর। হাওরের জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়, তাই এখানে এত পাখির দেখা মেলে।
কবরস্থান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আসমত আলী বলেন, এখানে পাখিকে কেউ অত্যাচার করলে বা শিকার করলে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে বলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, তিনি রাস্তার পাশের ঐ কবরস্থান ও গ্রাম দুটি দেখেছেন। সেখানে রীতিমতো পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে পাখির জন্য মমতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এলাকায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ এই মর্মে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হবে। পাখি শিকার প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে মাইকিং করা হবে।
