কারিগরি শিক্ষা যে কোনো দেশের উন্নয়নের হাতিয়ার। কোনো দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। উন্নত দেশগুলোর সরকার কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে বলেই তাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই কারিগরি প্রতিষ্ঠান। বিশাল জনসংখ্যার এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ পৃথিবীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় উন্নত জাতিরা অর্থনৈতিকভাবেও এগিয়ে রয়েছে।
আমাদের দেশে সরকারি পলিটেকনিকে শিক্ষার্থী বাড়লেও ব্যবহারিকে সুযোগ খুব একটা নেই। স্বল্পসংখ্যক সরকারি পলিটেকনিকের তুলনায় কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণে বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে স্বল্পসংখ্যক বেসরকারি পলিটেকনিক ছাড়া বেশির ভাগেরই মানের ঘাটতি রয়েছে। আর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ভালো ল্যাবরেটরি, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব দীর্ঘদিন ধরে লেগেই রয়েছে। অন্যদিকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য রয়েছে গাজীপুরে মাত্র একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিযোগিতার ভিড়ে সবাই সেখানে সুযোগ পায় না। আর বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা অনেক ব্যয়বহুল। ফলে যারাই এই শিক্ষা নিয়ে বের হচ্ছেন, তাদের মধ্যে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা খুব কম। অনেকেই আবার বিভিন্ন খণ্ডকালীন বেসরকারি প্রকল্প বা ব্যক্তি মালিকানা প্রকল্পে কয়েক বছর কাজ করে অনেকটা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করে থাকেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, সরকারি নিয়োগে এই মেধা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কোনো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। কারণ ততদিনে সরকারি চাকরিতে এই দক্ষদের আর আবেদনের বয়স থাকে না। ফলে সরকারের কারিগরি ক্ষেত্রগুলো যোগ্যদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মমুখী এই শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানোর জন্য অন্তত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়োগে বয়সসীমা শিথিল থাকা উচিত। তাছাড়া হাতেগোনা দুই-একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও তারা আবেদন করতে পারে না।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন এই লোকবলের অভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দিনে দিনে পিছিয়ে পড়ছে, তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, কার্যক্রমে আসছে না গতি। রাজস্ব খাতভুক্ত সব মন্ত্রণালয়ের প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির সব কারিগরি শূন্যপদে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনায় বয়সসীমা কমপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ বছর পর্যন্ত রেখে সরকারের দ্রুতই কিছু কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা উচিত। অন্যথায় বয়সের কারণে বিভিন্ন খণ্ডকালীন প্রকল্প থেকে বছরের পর বছর কাজ করা যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞরা দেশের তথা সরকারের কোনো কাজে লাগবে না। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ তথা এই চাকরিপ্রার্থীরা দিনে দিনে বেকারত্ব বাড়াবে এবং বাড়াচ্ছে। অথচ নিঃসন্দেহে এরাই সরকারের প্রকৌশল বিভাগগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিষয়টি বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকেরা গুরুত্বসহকারে আমলে নেবেন বলে বিশ্বাস করি।
n লেখক :প্রকৌশলী
