গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের সবার পরিবার হামলাকারী জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। আজ রায় উপলক্ষ্যে তাদের এই প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এসব পরিবার এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এখনো স্বজনদের তাড়া করে নিহতের বেঁচে থাকার সময়ের স্মৃতিগুলো।
জঙ্গি হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের একজন ইশরাত আখন্দ। বাবা মৃত আব্দুল মজিদ ও মা আছিয়া খাতুন। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের ইশরাত ছিলেন আর্ট প্রমোটর এবং ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান
ক্রিয়েটিভস-আইএসটির ট্রাস্টি। সদা হাস্যোজ্জ্বল ইশরাত প্রায় ২০ বছর ধরে শিল্পকলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ইশরাত আখন্দ ২০০৫-০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
ইশরাত পহেলা জুলাই শ্রীলঙ্কান বন্ধু হরিকেশা উইজেসেকারার সঙ্গে হলি আর্টিজানে যান। কিছু সময় পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন হরিকেশার স্ত্রী ফেপতা সায়েমা উইজেকেরা। তারা তিন জনই বসেছিলেন বারান্দার টেবিলে। জিম্মি থেকে শ্রীলঙ্কান দম্পতি মুক্তি পেলেও ইশরাতকে অকাতরে প্রাণ দিতে হয়। তার মামা ওবায়দুল হাসান হাইকোর্টের বিচারপতি। ইশরাতের বড়ো ভাই আলী হায়াত আখন্দ। আরেক ভাই ইউসুফ আখন্দ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জীবপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। ইশরাতের পরিবারের সবাই এই হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চান।
অবিন্তা কবির। ১৮ বছর বয়সী এই মেয়েটি বাংলাদেশ ও আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক। জন্ম ঢাকায়। বাবা ব্যবসায়ী এহসানুল কবির থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। মা রুবা আহমেদ অ্যালিগেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। এহসান-রুবা দম্পতির একমাত্র সন্তান অবিন্তা। ইমোরির অক্সফোর্ড কলেজ ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন অবিন্তা। চলতি বছরে তার স্নাতক ডিগ্রি শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঢাকায় পরিবার ও বন্ধুদের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন হলি আর্টিজানে হামলার তিন দিন আগে। ইফতারের পর আর্টিজানে গিয়েছিলেন ফারাজ ও ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈনের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে জঙ্গিদের হাতে তার নির্মম মৃত্যু হয়। অবিন্তা কবিরের স্মরণে তার পরিবারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন। তার পরিবারও চায় হামলাকারী জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি।
ফারাজ হোসেইন (২০) ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি। ফারাজ অক্সফোর্ড কলেজ অব ইমোরি ইউনিভার্সিটি থেকে ঐ বছর স্নাতক অর্জন করেন। ২০১৬ সালের ১৮ মে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ঢাকায় এসে দুই বন্ধুকে নিয়ে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পর জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন তিনি। পরিবারের সবাই এ হত্যার বিচার চান। নিহত তারুশি জেইন (১৮) নামের এক ভারতীয় নাগরিক ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্রী ছিলেন। এছাড়া জঙ্গি হামলায় ইতালির ৯ জন এবং জাপানের সাত নাগরিক নিহত হন।
