শেষ হলো নান্দীমুখ আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সব

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৫০

মুহাম্মদ দিদারুল আলম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শেষ হলো ‘নান্দীমুখ আন্তর্জাতিক নাট্য উত্সব ২০১৯’। প্রতিদিন সংস্কৃতিপ্রেমী বিভিন্ন পেশার মানুষের মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে ওঠে উত্সবস্থল। গত ১৪ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই উত্সবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব ও বিশ্ব আইটিআইয়ের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় দূতাবাস, চট্টগ্রামের সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি ও বিশিষ্ট নাট্য গবেষক আশীষ গোস্বামী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নান্দীমুখের দলীয় প্রধান অভিজিত্ সেনগুপ্ত।  

১৪ নভেম্বর আয়োজক সংগঠক নান্দীমুখ মঞ্চস্থ করে তাদের বহুল প্রশংসিত প্রযোজনা ‘আমার আমি’। ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় ছিল সেমিনার। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘বাংলা রাজনৈতিক থিয়েটার ও উত্পল দত্ত’। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নাট্য গবেষক আশীষ গোস্বামী। ১৬ নভেম্বর তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর ‘রোমিও জুলিয়েট’ মঞ্চস্থ হয়।

১৭ নভেম্বর আসরের চতুর্থ দিন ‘নান্দীমুখ কথামালা’য় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ম. সাইফুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক সঞ্জিব বড়ুয়া, নাট্যকার দীপক চৌধুরী ও নাওশীন ইসলাম দীশা। অনুষ্ঠানে বক্তারা নান্দীমুখের ৩০ বছরের বর্ণিল ও সক্রিয় কার্যক্রমের নানা তথ্য তুলে ধরেন। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নান্দীমুখ বিশ্ব নাটকের সঙ্গে চট্টগ্রামের দর্শক ও নাট্যকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

কথামালার পর গণসংগীত পরিবেশন করেন সৃজামি সাংস্কৃতিক অঙ্গন। এদিন মিলনায়তনে নাট্য পরিবেশনায় ছিল ভারতের আমতা পরিচয়ের প্রশংসিত প্রযোজনা ‘সাবিত্রীবাঈ ফুলে’। এই নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, জ্যোতিরাও-এর জন্ম ১৮৩১ সালের ৩ জানুয়ারি। বাল্যবিয়ের অভিজ্ঞতা তার সরাসরি হয়েছিল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে ১৩ বছরের জ্যোতিরাও ফুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। যে সময় বিয়ে ছিল সকল নারীর আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু, যদিও এই যুগলের বিয়ে ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে যায়। জ্যোতিরাও তাকে পড়তে শেখায়। অতঃপর তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকা। এই যুগল মিলিতভাবে সকল বর্ণের শিশুদের পাঠদান করতে লাগলেন এবং বর্ণবৈষম্য ভেঙে চুরমার করে দিলেন। এই নবযুগল প্রকৃত পক্ষে সকল জায়গা থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হতে লাগলো। তবে এই বর্ণ বিভাজন সাবিত্রীকে ভীষণ পীড়া দিতো। এমনই গল্পে গড়ে উঠেছে নাটক ‘সাবিত্রীবাঈ ফুলে’।

১৮ নভেম্বর মুক্তমঞ্চে ছিল নান্দীমুখ কথামালা ও সেতার বাদন। মিলনায়তনে ছিল ভারতের সবার পথের প্রযোজনা ‘ত্রিনয়ন’। ১৯ নভেম্বর স্পেনের মুন প্যালেস মঞ্চস্থ হয় ‘ডিলেমাস উইথ মাই ফ্লামেনকো টেইলকোট’, ২০ নভেম্বর ভারতের চাকদহ নাট্যজনের ‘বিল্বমঙ্গল’। ২১ নভেম্বর ইরানের ক্রেজি বডি গ্রুপ মঞ্চস্থ করে ‘মিস্টিরিয়াস গিফট’ এবং ২২ নভেম্বর ভারতের জ্যোতি ডোগরা গ্রুপের ‘ব্ল্যাক হোল’ দিয়ে শেষ হয় নান্দীমুখের তিন দশককে ঘিরে বছরব্যাপী আয়োজনের এই প্রথম প্রয়াস।

উল্লেখ্য, ভারত, ইরান, স্পেন ও বাংলাদেশের ৮টি নাট্যদল তাদের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা নিয়ে অংশ নেয় এ আয়োজনে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো নান্দীমুখ সারাদেশের ৪ জন প্রতিশ্রুতিশীল নাট্য নির্দেশককে সম্মাননা প্রদান করে।