ফিলিস্তিনের সামনে আর কোন পথ খোলা?

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৩

মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন ফাতাহ পার্টির আয়োজনে নূতন করিয়া রাস্তায় নামিয়াছে ফিলিস্তিনিরা। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতির আমেরিকা কর্তৃক স্বীকৃতিদানের বিরোধিতার নিমিত্তেই গোটা পশ্চিম তীর জুড়িয়া এই বিক্ষোভটির আয়োজন করা হইয়াছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি পুলিশ বাহিনীর হামলায় নানা স্থানে কয়েক শত ফিলিস্তিনি আহত হয়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পিও জানান, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলিয়া মনে করে না। স্মর্তব্য, ১৯৭৮ সাল হইতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হিসাবে বিবেচনা করিয়া আসিতেছে আমেরিকা। নূতন এই ঘোষণার মধ্য দিয়া আমেরিকা কার্যত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনসংক্রান্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত হইতেও সরিয়া আসিয়াছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে নূতন যে সিদ্ধান্তটি লইয়াছেন তাহা কিন্তু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নহে। বরং ইহাকে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী কয়েকটি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বলা যাইতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে আমেরিকা। ইহার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে শহরটিতে একটি দূতাবাসও খোলে দেশটি। ট্রাম্পের পূর্বেকার প্রেসিডেন্টরা জেরুজালেমের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দুই বিবদমান পক্ষ—অর্থাত্ ফিলিস্তিন ও ইসরাইলকেই ফয়সালায় আসিতে হইবে বলিয়া মনে করিতেন। এইখানেই শেষ নহে, ২০১৮ সালেই জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থীবিষয়ক ত্রাণ তহবিলে অর্থ জোগানের পরিমাণ হ্রাস করিবার ঘোষণা দেয় আমেরিকা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ফিলিস্তিন-ইসরাইলের বিরোধের ক্ষেত্রে আমেরিকা রাখঢাকহীনভাবেই ইসরাইলের পক্ষ লইবার নীতি গ্রহণ করিয়াছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ সংগতভাবেই আমেরিকার গত সপ্তাহের ঘোষণাটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে চেতনা উদয়ের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাইতেছে না। বরং ট্রাম্প তাহার ইহুদি জামাতা ও উপদেষ্টা জারেড কুশনারকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত অবসানের মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব অর্পণের পর পরিস্থিতি আরো জটিল হইয়াছে। কয়েক মাস পূর্বেও কুশনার বলিয়াছেন যে, ফিলিস্তিনিরা এখনো স্বশাসনের জন্য প্রস্তুত নহে। বস্তুত গত কয়েক বত্সর ধরিয়া এই চিত্রটি বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন দেখা যাইতেছে। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিটিও ক্রমশ যেন অতলে তলাইয়া যাইতেছে।

এমতাবস্থাতে সাত দশক ধরিয়া চলমান সংকটটির অবসান কেমন করিয়া হইবে? একসময় বিবাদ মীমাংসার জন্য দুই রাষ্ট্র সমাধানের কথা ব্যাপকভাবে আলোচিত হইত। অর্থাত্, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল দুইটি রাষ্ট্র হিসাবে পরস্পরের অশান্তি না করিয়া পাশাপাশি বিরাজ করিবে। কিন্তু গত কয়েক বত্সরে পরিবর্তিত বাস্তবতাতে ইসরাইল এখন আর দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ব্যাপারে তেমন একটা গা করিতেছে না। এমতাবস্থায় ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধের সংস্কৃতিতে ফিরিয়া যাইবে, নাকি সংলাপের মধ্য দিয়া দাবি আদায় করিবে?