আগামী সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটির তপশিল

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৩

ইভিএমে মধ্য জানুয়ারিতে একসঙ্গে ভোট

সাইদুর রহমান

আগামী সপ্তাহে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরলে এই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে তপশিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কমিশন। সম্প্রতি দুই সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ ৪৮ জন কাউন্সিলর ইসিতে জানুয়ারিতে নির্বাচন না করার আবেদন করেন। ভাবা হয়েছিল এতে নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা নেই। তাদের আবেদন পেয়েছি। তপশিল ঘোষণায় কোনো আইনি জটিলতা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শুক্রবার দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কমিশন।

এদিকে ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোটের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। গত ১৪ নভেম্বর নির্বাচন উপযোগী হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আর ১৮ নভেম্বর থেকে নির্বাচন ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ সিটিতে। নিবাচন কর্মকর্তারা জানান, দুই সিটির সমপ্রসারিত ৪৮ জন কাউন্সিলর সময় চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। তাদের দাবি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে তারা এক বছরও সময় পাননি। অথচ এক জন কাউন্সিলর পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে দুই সিটির এসব সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে এখনই ভোট না দিয়ে তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে এ বিষয়ে কমিশনের কিছুই করণীয় নেই বলে জানান তারা।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার থেকে চিঠি পাওয়ার পর ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে কমিশন। প্রথমত কমিশন চিন্তা করছে ডিসেম্বরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে ঢাকার দুই সিটির তপশিল ঘোষণার। ১৬, ১৯, ২৩, ২৬ ও ৩০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৪৫ দিন হাতে রেখে তপশিল ঘোষণা করবে কমিশন। তপশিলের সম্ভাব্য তারিখ বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৬ বা ১৯ জানুয়ারি ভোট হলে তপশিল হবে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। আর ২৩ বা ২৬ জানুয়ারি ভোট হলে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তপশিল; ৩০ জানুয়ারি ভোট হলে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তপশিল ঘোষণার চিন্তা রয়েছে কমিশনের। বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

খসড়া ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত : ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, ইতিমধ্যে দুই সিটির ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত আছে ভোটার তালিকাও। আর ইসি সচিবালয় দুই সিটির সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে। তারা বলেছেন, দুই সিটিতে প্রায় আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। এ জন্য ১৫ হাজার ইভিএম প্রয়োজন হবে। ইভিএমে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মেশিন কমিশনের সংগ্রহে রয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে ও চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় একই বছরের ৬ আগস্ট। এই হিসাবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে, আর দক্ষিণে একই বছরের ১৬ মে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে। তবে চট্টগ্রাম সিটির ভোট নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯টি এবং ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৫১৬টি। আর দক্ষিণ সিটিতে ভোটার রয়েছেন ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১২৪ এবং ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৯৯৮টি।