মার্কিন বিজ্ঞানী রেমন্ড কার্জওয়েল একজন ভবিষ্যত্ স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি সব সময় এমন কিছু আবিষ্কারের জন্য কাজ করে গেছেন যা কিনা মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তিনি আবিষ্কার করেছেন অপটিক্যাল ক্যারাক্টার রিকগনিশন (ওসিআর), টেক্সট-টু-স্পিস সংশ্লেষক, কথা শোনার যন্ত্র এবং ইলেক্ট্রনিক কিবোর্ড যন্ত্রপাতি। স্বাস্থ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানুষের, ট্রান্সহিউম্যানিজম এবং ভবিষ্যত্বাদ নিয়েও বই লিখেছেন তিনি। মানুষের জীবনের সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, রোবোটিক এবং বায়োটেকনোলজির সংমিশ্রণ ঘটানোর বিষয়ে দারুণ আশাবাদী রেমন্ড কার্জওয়েল। দারুণ প্রতিভাধর এ বিজ্ঞানী এখন স্বপ্ন দেখছেন আগামী বিশ বছর পর ২০৪০ সালের মধ্যে মস্তিষ্ক আপলোড করার! তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এই মস্তিষ্ক আপলোড করতে হবে ডিজিটাল ভার্সনে। আর এর মাধ্যমেই মূলত অমরত্ব লাভ করার কথা চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণী বেঁচে থাকে তার মস্তিষ্কে। অনুভূতি, বুদ্ধিমত্তা, মন, চেতনা ইত্যাদি সব কিছুই মস্তিষ্কেই সৃষ্টি হয়। অধুনা মানুষের মস্তিষ্ক পড়ার মতো যে প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে তার মাধ্যমে পুরোপুরি কপি করে ফেলা সম্ভব মানুষের মস্তিষ্ক। এরপর ঐ মস্তিষ্ককে ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করে রাখতে পারলে ঐ মানুষটির সকল বুদ্ধি, অনুভূতিসহ সব গুণাবলি সংরক্ষিত থাকবে কম্পিউটারে। এরপর ঐ মস্তিষ্ককে যদি কোনো কৃত্রিম শরীরে প্রবেশ করানো হয় তাহলে চিরকাল বেঁচে থাকা সম্ভব।
এই প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, অন্য কারও চারিত্রিক গুণাবলিকে সম্পূর্ণ আলাদা শরীরে প্রবেশ করিয়ে তার ক্লোন হিসেবে বাঁচিয়ে রাখা। ইনিশিয়েটিভ নামের একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। স্যার স্টিফেন হকিংও মনে করতেন, ২০৪৫ সালের মধ্যেই আমার এই প্রযুক্তি সত্যি হবে। মার্কিন বিজ্ঞানী রেমন্ড কার্জওয়েল মনে করেন, এটি সম্ভব হবে মানুষ ইচ্ছাখুশি মতো বদলে নিতে পারবে মস্তিষ্ক। তবে এর সব কিছুই হতে হবে ডিজিটাল ভার্সনে। মানব মস্তিষ্কের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করে তা আপলোড করার পর ইচ্ছামতো সেটিকে সংস্কারও করা যাবে। আর ডিজিটাল এই মস্তিষ্ককে ডাউনলোড করতে হবে অর্থাত্ প্রতিস্থাপন করতে হবে মানুষ এবং নন-বায়োলিজিক্যাল কোনো শরীরে। —সিএনএন
