ইরাকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১৪

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২৩

বিবিসি ও  আল জাজিরা

ইরাকের নাসিরিয়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বৃহস্পতিবার কমপক্ষে ১৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে নাজাফে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা নাসিরিয়াতে একটি সেতুতে জমায়েত হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্দেশ্যে সরাসরি গুলি চালায়। এতে ১৪ জন নিহত ও আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।  বুধবার রাজধানী বাগদাদেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই জন নিহত হয়। ইরাকে  প্রায় দুই মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। বেকারত্ব দূরীকরণ ও উন্নত সরকারি সেবার জন্য বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এখন পর্যন্ত এ বিক্ষোভে প্রায় ৩৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।

এদিকে বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফের ইরানি কনস্যুলেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান দূর হও’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ার আগেই ইরানি কনস্যুলেটের কর্মীরা সরে যায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে আটকে রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু তারা পুলিশের প্রতিরোধ ভেঙে কনস্যুলেট ভবনে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালায়। তারপর পুরো ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর শহর জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। বুধবার রাতের ঐ ঘটনায় ৩৫ বিক্ষোভকারী ও ইরাকি নিরাপত্তাবাহিনীর ৩২ জন আহত হয়।

নাজাফে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা একটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা। এই নিয়ে চলতি মাসে ইরাকে ইরানের দ্বিতীয় আরেকটি কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা ঘটল। তিন সপ্তাহ আগে কারবালা শহরের ইরানি কনস্যুলেটেও হামলা হয়েছিল। ইরাকে ‘অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার’ জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছে ইরান। অপরদিকে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সরকারের প্রতি সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। প্রসঙ্গত, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোতে ইরান ও স্থানীয় প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম মিলিশিয়া বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।