অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১২

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া অপরিচিতি কোনো  রোগ নয়। বাংলাদেশে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার অনেক রোগী আছে। আমাদের দেহের রক্ত তৈরির কারখানা হচ্ছে অস্থিমজ্জা। অস্থির ভেতরে থাকে অস্থিমজ্জা। যখন এই অস্থিমজ্জা নষ্ট হয়ে যায় বা অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন দেখা দেয় অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া।

যে কোনো বয়সেই অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। ধীরে ধীরে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। অস্থিমজ্জা থেকে তিন ধরনের রক্তকণিকাই তৈরি হয়। এসব রক্তকণিকার মধ্যে আচ্ছে লোহিত রক্তকাণিকা, শ্বেতরক্তকণিকা এবং অনুচক্রিকা। প্রতিটি রক্তকণিকার ভিন্ন ভিন্ন কাজ আছে। যেহেতু অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়াতে রক্তকাণিকাগুলো অনেক কমে যায় সুতরাং এসব রক্তকণিকা যেসব কাজ করে যেসব কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দেখা দেয় বিভিন্ন উপসর্গ।

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার বিভিন্ন কারণ আছে। এদের মধ্যে প্রাথমিক কারণের জন্য যেমন হতে পারে আবার সেকেন্ডারি বা পরোক্ষ কারণেও অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হয়। পরোক্ষ কারণের মধ্যে আছে আণবিক বিকিরণ, রাসায়নিক পদার্থ, বিভিন্ন ওষুধ, ভাইরাল হেপাটাইটিস, গর্ভাবস্থায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ। রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে ডিডিটি, বেনজিন, টিএনটি ইত্যাদি দায়ী। আর ওষুধের মধ্যে আছে ক্লোরামফেনিকল, ক্লোরপ্লমাজিন, টলবুটামাইড, ইন্ডোমেথাসিন, কার্বামাজেপিন, হাইড্রালাজিন ইত্যাদি।

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার রোগীর বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। এসব উপসর্গ দেখে রোগ সম্পর্ক ধারণা পাওয়া যায়। এই রোগে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তার মধ্যে আছে—শরীর দুর্বল লাগা, অবসাদগ্রস্ততা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, মুখে প্রদাহ, শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাত হওয়া যেমন দাঁতের মাড়ি, নাক, কাশি বা বমির সাথে, প্রস্রাবের সঙ্গে।

মলদ্ব্বার দিয়ে বা গায়ের চামড়ার নিচে রক্তপাত হয়। এছাড়াও অনেক সময় চামড়ার নিচে মশার কামড়ের মতো দাগ দেখা দেয়।  অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার ডায়াগনসিস খুব কঠিন নয়। রোগের লক্ষণ দেখেই রোগটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রোগীর কাছ থেকে ভালোভাবে ইতিহাস নিলে এবং শারীরিক পরীক্ষা করলে ডায়াগনসিসের কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়। জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। কিন্তু এসব চিকিত্সা খুব ফলপ্রসূ নয়। প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি রোগী এর ফলে মৃত্যুবরণ করে। তবে ৩০ বছরের নিচে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করলে রোগটি ভালো হয়ে যায়। তবে যাদের বয়স বেশি তাদের সাইক্লোস্পোরিন এবং অ্যান্টিথাইমোসাইট গ্লোবিউলিন দিয়ে চিকিত্সা করা হয়।

তবে এসব চিকিত্সা দিলে রোগটি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।  অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের দিকে নজর দেয়া দরকার। রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। হুটহাট অ্যান্টি-বায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। যেসব ওষুধ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া করতে পারে সেসব ওষুধ খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। এক্সরে বা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ঘটাতে পারে।

এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একটু সচেতনতাই অনেক

সমস্যা কমাতে পারে।

 

nডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ

পাবনা মেডিক্যাল কলেজ