ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করছে সৌরবিদ্যুত্

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৩

বিশেষ সংবাদদাতা

ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম একটি নিয়ামক বিভিন্ন অফিস আদালতে ডিজিটাল হাজিরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের অভাবে এই ডিজিটাল হাজিরা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এই ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করেছে সৌরবিদ্যুত্। বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও, এসব অফিসে সৌরবিদ্যুত্ স্থাপনের ফলে লোডশেডিং এর সময় কাজও থেমে থাকে না বলে তারা জানান।

ঢাকা-নোয়াখালী সড়কের পাশেই সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কাগজে কলমে ৫১ শয্যাবিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সবসমই ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান কমপ্লেক্সটির এমটিইপিআই কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মামুন। তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুত্ পেয়ে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং অন্যান্য অফিসিয়াল কাজকর্ম করতে অনেক সুবিধা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ করে অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ডাক্তার, নার্সসহ চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত হচ্ছে সৌরবিদ্যুত্ থাকার ফলে। এছাড়া বিদ্যুত্ চলে গেলে জরুরি চিকিত্সাসেবাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’

এলাকাবাসী মনে করেন সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সৌরসড়কবাতি স্থাপন করায় নেশাখোর, বখাটে এবং ছোটোখাটো অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। উপজেলার একটি পৌরসভা এবং ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে, অফিস-আদালত, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে ৬২১টি সৌরসড়কবাতি স্থাপনের ফলে সাধারণ জনগণ উপকৃত হচ্ছেন।

 সৌরবিদ্যুত্ প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ গত চার বছর সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিটা কর্মসূচির আওতায় সৌরবিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুত্’ এবং ‘গ্রাম হবে শহর’ এই শ্লোগানকে মূলমন্ত্র করে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে।

‘উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ ২০১৬-১৭, ১৭-১৮ এবং ১৮-১৯ অর্থবছরে সোনাইমুড়ী উপজেলার একটি পৌরসভা, ১০টি ইউনিয়নে ১,০৮৭টি সোলার হোমসিস্টেম, ৬২১টি সৌরসড়কবাতি, আটটি ডিসি সিস্টেম এবং ৯টি এসি সিস্টেম স্থাপন করেছে। এছাড়াও, ৪৯টি মাদ্রাসায়, ১০৭টি মসজিদে, ১৮টি মন্দিরে, ৬১টি স্কুলে এবং ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৌরপ্যানেল স্থাপন করার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে চার অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৭৪ লাখ ১১ হাজার ৭২২ টাকা। 

উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের হালিমা বেগম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুত্ থাকাতে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করতে সুবিধা হচ্ছে। কারণ, অনেক সময়ই বিদ্যুত্ থাকে না।’ কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. আব্দুল হামিদ বলেন যে, ‘সৌরবিদ্যুত্ থাকাতে তাদের সংসারের কাজকর্ম করতে সুবিধা হচ্ছে।’

‘উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ এর ম্যানেজার মো. সায়েম বলেন যে, ‘তারা যখনই কোনো বাড়িতে, প্রতিষ্ঠানে বা সড়কে এই সৌরপ্যানেল স্থাপন করতে যান সে বাড়ি, অফিসের লোকজন এবং এলাকাবাসীর আগ্রহ ও আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখার মতো। তিনি বলেন, আমরা তিন বছর পর্যন্ত সৌরপ্যানেলের স্থাপনোত্তর সেবা দিচ্ছি। গ্রাহকের কাছে আমাদের মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। যেকোনো সমস্যায় তারা আমাদের ফোন দেন এবং আমরা দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে দেই। এতে প্রতিটি গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের একটি সামাজিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে।’