জামালপুর শহরতলীর গুয়াবাড়িয়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার গুলিতে জ্যোতি (১২) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়েছে। প্রতিবেশীরা তাত্ক্ষণিক জ্যোতিকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জ্যোতির স্বজনদের দাবি, স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে শীতকালীন ফায়ারিং প্রশিক্ষণ চলছে। সেখান থেকে আসা গুলিতেই জ্যোতি আহত হয়েছে। তবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল এস এম আজাদ বলেছেন, এ গুলি তাদের কি না ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না। তবে আহত শিশুর সমস্ত চিকিত্সার ব্যয় তারা বহন করবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আহত জ্যোতির বড়ো বোন সুরাইয়া জান্নাত জিমি জানায়, দুপুর ২টার দিকে ঘরের মেঝেতে বসে সে তার ছোটো বোন জ্যোতিকে নিয়ে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। এমন সময় আকস্মিক একটি গুলি তাদের ঘরের টিনের বেড়া ছিদ্র করে এসে জ্যোতির কপালের ডানপাশে আঘাত করে ছিটকে পড়ে, কিন্তু মাথার ভেতরে ঢুকেনি। গুলির আঘাতে জ্যোতির মাথা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরতে থাকে। এসময় দুই বোনের চিত্কারে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত জ্যোতিকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেন।
পরে খবর পেয়ে ঐ দিন বিকালে ৩৫ বিজিবির জামালপুর ক্যাম্পের সুবেদার মেজর মো. মশিউরসহ বিজিবির একটি দল চিকিত্সাধীন শিশু জ্যোতিকে দেখতে হাসপাতালে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে যান। তিনি শিশুটির মাথায় রক্তাক্ত ক্ষতস্থান এবং হাসপাতালে রাখা গুলিটি দেখেন।
এ ব্যাপারে জামালপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘শিশু জ্যোতির মাথায় গুলির আঘাত লেগে বেশ ক্ষত হয়েছে। গুলি মাথার ভেতরে ঢুকেনি, তাই অল্পের জন্য শিশুটি বেঁচে গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ১০/১২ বছর আগেও একবার ঐ এলাকার এক কৃষক গরু চড়াতে গিয়ে একই ভাবে গুলিতে আহত হয়েছিলেন।
