অনুরোধ রাখতে গিয়ে ছিনতাইয়ের কবলে পাঠাও চালক

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৩৭

অনুরোধ রাখতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন মেহেদী হাসান নামের একজন পাঠাও চালক। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারসহ ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানায়, মেহেদী হাসান মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন। রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের রাইডে প্রাপ্য আয় দিয়ে সংসারের ঘানি টানতেন। তবে তুলনামূলকভাবে কম যানজট এবং রেদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে রাতে রাইড শেয়ারিং করতেন তিনি। গত ৪ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এক যাত্রীকে কল্যাণপুরে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন মেহেদী। শ্যামলী এলাকায় পৌঁছার পর দুই জন পথচারী তার বাইকের সামনে দৌড়ে এসে অনুরোধ করে, তাদের একজন বন্ধু বাড্ডা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মেহেদীকে তারা ঐ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু মেহেদী তাদের একজনকে ‘পাঠাও কল’ দিতে বললে তারা জানান, দুর্ঘটনার কথা শুনে তারা দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে এসেছেন। সঙ্গে যে মোবাইল নিয়ে এসেছেন, তাতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে দুই জনকে বাইকে উঠতে বলেন মেহেদী হাসান। রাত সাড়ে ৩ টার দিকে উত্তর বেগুনবাড়ি সংলগ্ন হাতিরঝিলের বায়তুল নূর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছাতেই বুকের ডানপাশে ধারালো কিছুর স্পর্শ টের পান মেহেদী। পরক্ষেণেই তাকে বাইক থেকে নামতে বলা হয় এবং নামলে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আরোহীরা মেহেদীর মানিব্যাগ, মোবাইল, মোটরবাইক ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, মেহেদীর ড্রাইভিং লাইসেন্স, হ্যান্ডব্যাগসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন মোটরবাইকটি হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মেহেদী।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে এসি মঈনুল ইসলাম, হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম আজম ও এএসআই তরিকুল ইসলামের একটি টিম গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে ছিনতাইকারী সুজন এবং দারুস সালামের ঈদগাঁহ এলাকা থেকে অপর ছিনতাইকারী রাব্বিকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বুধবার মধ্য রাতে দারুস সালাম এলাকার ২০৫ নম্বর বাড়ির নিচ থেকে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়।