ভারত সফরে গোতাবায়া, পাশে আছি বার্তা দিয়েও শঙ্কায় দিল্লি

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫৫

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপটি নিল ভারত। কূটনৈতিক শিবিরে প্রশ্ন উঠছে, কতদিন ধরে রাখা যাবে এই মসৃণতা? প্রতিবেশি কূটনীতিতে কোণঠাসা ভারতের সামনে গোতাবায়া রাজাপক্ষ যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন, সে বিষয়ে সাউথ ব্লকের মনে বিশেষ সন্দেহ নেই! খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। 

গতকাল রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে শ্রীলঙ্কার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ককে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা জোর গলায় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি। সাড়া দিয়েছেন গোতাবায়াও। ঠিক ছয় বছর আগে এই রাজাপক্ষকেই ডেকে পাঠিয়েছিল সাউথ ব্লক। 

কড়া ভাষায় সেদিন জানতে চাওয়া হয়েছিল, সেদেশের উপকূলে চীনা ডুবোজাহাজের কার্যকলাপ সম্পর্কে। তখন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন গোতাবায়া। অতীতের সেই দাগ মুছে ফেলে নরেন্দ্র মোদি এবং গোতাবায়া রাজাপক্ষের সৌভ্রাতৃত্বের ছবিটা যাতে সুনিপুণ করা যায় তার জন্য যথেষ্ট সক্রিয় ছিল মোদি সরকার।

চীনা ঘনিষ্ঠ রাজাপক্ষ পরিবারকে নিজেদের শিবিরে আনতেই এই বাড়তি সক্রিয়তা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে দ্রুত কলম্বো পাঠানো হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে এর আগে যা কখনো করা হয়নি। 

ভারত জানে যে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে প্রথম বিদেশসেফর হিসেবে ভারতকে গোতাবায়া বেছে নিলেও তাতে দিল্লির খুব আনন্দিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। খুব শিগগিরই বেইজিং সফরে যাবেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। সেখানে তৈরি হবে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগতভাবে পুরনো ও গভীর সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি।

দ্বীপরাষ্ট্রকে কাজে লাগিয়ে ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে এর আগে যেভাবে সক্রিয় থেকেছে চীন, রাজাপক্ষের প্রত্যাবর্তনে তারই ধারাবাহিকতা ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা সাউথ ব্লকের।

ইত্তেফাক/এসআর