নারী নির্যাতন মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাসপেন্ড

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৬

বেগমগঞ্জের রাজুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের ঘটনায় নোয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর মাসুদ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

বিবরণে জানা যায়,বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন খোয়াজপুর গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্যার কন্যা রাজিয়া সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে ২০১৮ সনে পাশ্ববর্তী শ্রীধরপুর গ্রামের নুরনবীর পুত্র ও রাজুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ আলমের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে মাসুদ আলম জ্যোতিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পিত্রালয় থেকে বার বার নগদ টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। বাধ্য হয়ে জ্যোতি পিত্রালয় থেকে একাধিকবার টাকা এনে দেয়। সর্বশেষ আরও পাঁচ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। এতে জ্যোতি অস্বীকার করলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এমনকি মাইজদি বাজারস্থ  শ্বশুরালয়ে গিয়েও মারধর করা হয় জ্যোতিকে।

নিরুপায় হয়ে জ্যোতি গত ০৮ নভেম্বর মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে নোয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ ১৩ নভেম্ভর মাসুদ আলমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মাসুদ আলম গ্রেফতার ও জেলে থাকায় নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর ২৫ নভেম্বর ২৭৮৫ নং স্মারকে মাসুদ আলমকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। 

২৫ নভেম্বর আদালত মাসুদ আলমকে জামিন দেন। জামিনে মুক্ত হয়ে মাসুদ আলম  নানান হুঙ্কার ছাড়তে থাকে। প্রচার করে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে সে এখন বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে।

এ ব্যাপারে রাজুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বহাল আছে। এ অবস্থায় মাসুদ আলমকে কোনও অবস্থায় ক্লাস করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: শিবচরে বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত-১

বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা পারভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্থের আদেশ প্রত্যাহারের কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে সে সাসপেন্ড অবস্থায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু