বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দে নগরবাসী এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন (উচ্চমাত্রার) যুক্ত করে যানজটে উচ্চৈশব্দের প্রতিযোগিতায় নামছে চালকরা। সিটি করপোরেশনের অধীন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের জন্য ইজিবাইকের ২ হাজার ৬৯০টি লাইসেন্সের নবায়ন বন্ধ রয়েছে গত জুন মাস থেকে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটারিচালিত ঐ অটোরিকশার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখে সিটি করপোরেশন। বর্তমানে সিটি করপোরেশন কর্তৃক নবায়ন বন্ধ রাখা ঐ ২ হাজার ৬৯০টি ইজিবাইকের পাশাপাশি দ্বিগুণেরও বেশি ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশাসহ বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত গ্যাসচালিত অটোরিকশা, সিএনএজি ও থ্রি-হুইলারসহ (মাহিন্দ্র) ১০ সহস্রাধিকের চেয়েও বেশি যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরীতে। আর রাত বাড়লেই পণ্যবাহী ট্রাকের নগরীতে পরিণত হয় পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা। ফলে দিন-রাত এসব বৈধ-অবৈধ যানবাহনের উচ্চমাত্রার হর্নের শব্দে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়ছে নগরবাসী। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, বরিশাল মহানগরীতে দিনে দিনে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দে সড়কের পাশে বাসাবাড়িতে মানুষ বসবাস করতে পারছে না। তিনি নতুন সড়ক ও পরিবহন আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দের স্বাভাবিক মাত্রা ৭০ ডেসিবেল হলেও বরিশাল নগরীতে তা ১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী বায়োকেমিস্ট মো. মুনতাসির জানান, পরিবেশ বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী স্বাভাবিক শব্দের মাত্রা ৭০ এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবেল। কিন্তু হাইড্রোলিক হর্নে ১০০ ডেসিবেলের চেয়ে বেশি শব্দ হয়। আর মহানগরীর মধ্যে যে কল-কারখানা রয়েছে তাতেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শব্দ হচ্ছে।
বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, শব্দদূষণে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একসময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম মেসবাহউদ্দিন আহমদ জানান, নিয়মিত শব্দদূষণ স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি বিনষ্ট করে এবং একপর্যায়ে কৃত্রিম যন্ত্র দিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি শুনতে পান না। আর এ ধরনের সমস্যার পাশাপাশি শব্দদূষণে আক্রান্ত ব্যক্তির মেজাজ খিটখিটে থাকাসহ মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব পড়ায় কখনো কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়।
বিআরটিএ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আতিক বলেন, বরিশালে মোট নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে ৪৭ হাজার ৯৫২টি এবং ৩৬ হাজার ৩৮৪ জন চালকের লাইসেন্স রয়েছে। যানবাহনে উচ্চমাত্রার শব্দের বিরুদ্ধে নতুন আইন অনুযায়ী অভিযানে নামবে বিআরটিএ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার খাইরুল আলম জানান, নতুন সড়ক ও পরিবহন আইন বাস্তবায়নে প্রতিদিনই নগরীতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে ট্রাফিক বিভাগ। নতুন আইন অনুযায়ী উচ্চমাত্রায় শব্দ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
