তিন বিভাগে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট, দুর্ভোগ

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৩

তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রংপুর, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির ডাকে ওই তিন বিভাগে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে অনেক স্থানে জ্বালানি তেল সংকটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ মোমিন দুলাল বলেছেন, তাদের ১৫ দফা দাবি পূরণ করতে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন।  এদিকে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুদ খান এবং মহাসচিব ফারহান নূর স্বাক্ষরিত ওই  বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়া, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান—বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা, প্রিমিয়াম পরিশোধসাপেক্ষে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের জন্য ৫ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা, ট্যাংক-লরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, বিভিন্ন জেলায় ট্যাংক-লরি থেকে চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা ইত্যাদি।

রংপুর বিভাগে ধর্মঘটের বিষয়টি শনিবার রাতে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে শুধু মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পাম্প পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে পেট্রোল পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতি রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক শাহ মো. সেলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আলোচনায় বসার নামে বহুবার কালক্ষেপণ করা হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে এ পথ বেছে নিয়েছি। রংপুর জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে মোট ফিলিং স্টেশন রয়েছে ১৫২টি। এর মধ্যে রংপুরে রয়েছে ৮৫টি। এসব ফিলিং স্টেশন মজুতের ক্ষমতা রয়েছে ডিজেল ২৭ লাখ, কেরোসিন ১০ লাখ ৬০ হাজার, পেট্রোল ৬ লাখ ও অকটেন ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার। চাহিদা রয়েছে ডিজেল ১ কোটি ২৫ লাখ, পেট্রোল ২৫ লাখ ৫০ হাজার ও অকটেন ৪ লাখ ৪০ হাজার লিটার। অথচ চলতি বছরের মে মাসে তারা পেয়েছে অর্ধেকেরও কম। সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রতিমাসে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরাসিন মিলে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ৪  লাখ ৫ হাজার লিটার। অথচ তিনি এর ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেলও পাচ্ছেন না। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এরকম বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে তারা ১৫ দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।

ধর্মঘটের প্রতি ট্যাংক-লরির অধিকাংশ চালক-শ্রমিকরা সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলছেন, ট্যাংক-লরি চালাতে গিয়ে সড়কে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।

অন্যদিকে খুলনাতেও শ্রমিকরা মহানগরীর কাশিপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি ডিপোর তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ  রেখে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘরে কর্মসূচি পালন করছে। ফলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত ট্রাক-লরির চাপে ফিলিং স্টেশন এবং স্ট্যান্ডে জায়গা না হওয়ায় সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। খুলনার আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক ও অমীমাংসিত দাবিসমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছে। বার-বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান, যেগুলো মেনে নিয়ে এই ব্যবসা করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

এদিকে, একই দাবিতে রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। গোটা বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের প্রথম দিনেই চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। গতকাল সকাল থেকে রাজশাহীর কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে আর জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। তেল না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন বিপাকে। যারা ধর্মঘটের খবরে আগাম জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছিলেন তারাই কেবল গতকাল মোটরসাইকেল চালাতে সক্ষম হন।

রবিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় থাকা আলম ফিলিং স্টেশনের সেলসম্যান মুরাদ হোসেন জানান, কেন্দ ীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রবিবার ভোর ৬টা থেকে তারা ধর্মঘটে গেছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে মহানগরীর কুমারপাড়ার গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘটের খবর ফলাওভাবে প্রচার হয়নি। তাই আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। যে কারণে সকালে পাম্পে আসেন পেট্রোল নেওয়ার জন্য। এসে দেখেন দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। ফলে হঠাত্ করেই দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। খোলা বাজারেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মিলছে না।

এসব বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা ধর্মঘটের একই চিত্র তুলে ধরেছেন। ধর্মঘটের প্রতি ট্যাংকলরির অধিকাংশ চালক-শ্রমিকরা সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলছেন, ট্যাংকলরি চালাতে গিয়ে সড়কে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।

অন্যদিকে খুলনাতেও শ্রমিকরা মহানগরীর কাশিপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি  ডিপোর তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ  রেখে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের কর্মসূচি পালন করছে। ফলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত ট্রাক-লরির চাপে ফিলিং স্টেশন এবং স্ট্যান্ডে জায়গা না হওয়ায় সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। খুলনার আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক ও অমীমাংসিত দাবিসমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছে। বার বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান, যেগুলো মেনে নিয়ে এই ব্যবসা করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

রবিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় থাকা আলম ফিলিং স্টেশনের সেলসম্যান মুরাদ হোসেন জানান, কেন্দ ীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রবিবার ভোর ৬টা থেকে তারা ধর্মঘটে গেছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে মহানগরীর কুমারপাড়ার গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘটের খবর ফলাওভাবে প্রচার হয়নি। তাই আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। যে কারণে সকালে পাম্পে আসেন পেট্রোল নেওয়ার জন্য। এসে দেখেন দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। ফলে হঠাত্ করেই দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। খোলা বাজারেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মিলছে না।