কাঠমান্ডুর শহর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা। ট্র্যাফিক জ্যাম যেন গেমসের কাউকে বিব্রত করতে না পারে তার জন্য সড়কে শুধু বেজোড় সংখ্যার গাড়ি চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমাপনীর দিনে চলবে জোড় সংখ্যার গাড়ি। সেই ৯৯ সালের ৮ম সাফ গেমসের পর নতুন নামে ১৩তম এসএ গেমসের আসর বসল নেপালে। কাল বিকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছিল দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের চারপাশ। জমকালো উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট সব অনলাইনে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তারপরও টিকিট বুথে ছিল ভিড়। ২০ বছর পর আবার নেপালে গেমস। তাই এই গেমসকে টার্গেট করে নেপালিরা উত্সবে মেতেছিল। সাত দেশের ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মার্চপাস্টের পর নেপালের ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নানা ডিসপ্লের মাধ্যমে। দশরথের মাঠে তখন জায়গা নেই। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দশরথের স্টেডিয়াম নতুন করে গড়ে তোলায় আধুনিক চেহারা পেয়েছে। চার বছর পর আবার নেপালিরা আসন পেয়েছেন স্টেডিয়ামে। দর্শক যেন অপলক দৃষ্টিতে উপভোগ করল গেমসের উদ্বোধন। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ এই সাত দেশের কয়েক হাজার ক্রীড়াবিদের পদচারণায় মুখরিত গেমস। বিকালে নেপালের আকাশে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় লেজার লাইটে আলোর খেলা। সন্ধ্যার পর আকাশ বর্ণিল করে তুলেছিল আতশবাজির স্ফুরণ।
১-১০ ডিসেম্বর, ১০ দিনে ২৭টি খেলায় ৩১৭টি সোনার পদকের লড়াই। বাংলাদেশ ২৫টি ডিসিপ্লিনে খেলবে। ২০১৫ সালে ভূমিকম্পের পর নেপালিদের চোখে ভয়াবহতা এখনো লেগেছিল। কাল এসএ গেমসের ক্রীড়া উত্সব সেই ক্ষতঘায়ে শান্তির প্রলেপ দিয়েছে। নতুন করে বাঁচার উদ্দীপনা দিচ্ছে।
