পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩৪

দেশের তিন বিভাগের ২৬টি জেলায় দুই দিন তেল বিক্রি বন্ধ রাখার পর ধর্মঘট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিকরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসির) সঙ্গে আলোচনায় কিছু বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার পর আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বিপিসির লিয়াজোঁ অফিসে বিপিসির কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকশেষে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম এক      যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিপিসির কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা জনগণের ভোগান্তি চাই না। আগামী ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বানে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। সে পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি স্থগিত রেখেছি।

বিপিসির পরিচালক (বিপণন) সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, পেট্রোল পাম্প মালিক-শ্রমিককদের দাবিগুলোর মধ্যে বিপিসি সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে দুই-তিনটি। বাকিগুলোর বিষয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সেটি তাদেরকে জানানো হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। জ্বালানি তেল বিক্রিতে পাম্প মালিকদের কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়ার যে দাবি ছিল, সে বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

গত ২৬ নভেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন। এরপর গত রবিবার সকাল থেকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় তিন বিভাগের ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় বিপাকে পড়েন গাড়ি চালকরা। পাম্পে এসে তেল না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়। উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও কমে যায়। পাম্পগুলোতে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত পোস্টার টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল দুপুরে বৈঠকের পর বিকাল থেকে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফার মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি তেল বিক্রিতে কম পক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়া, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান—বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের জন্য ৫ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা,  ট্যাংক-লরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট করা, জেনারেল স্টোর ও ক্ল্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল করা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পাম্পের প্রবেশপথের ভূমির জন্য ইজারা নেওয়ার নিয়ম বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক পাঁচ বছর পরপর বাধ্যতামূলকভাবে ক্যালিব্রেশনের নিয়ম বাতিল, ট্যাংক-লরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ছাড়া ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ করা, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু করা, পেট্রোল পাম্পের পাশে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন জেলায় ট্যাংক-লরি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।