আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন
দেখতে দেখতে চারটা বছর চলে গেল। ভালো সময়গুলো যে কত দ্রুত চলে যায় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি! এইতো সেদিন চোখেমুখে হাজারো স্বপ্ন আর একবুক আশা নিয়ে জবির সমাজবিজ্ঞান চত্বরে এসেছিলাম। সময়ের ব্যবধানে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। আর কয়েকদিন বাদে স্থায়ীভাবে এ সবুজ শ্যামল মায়াঘেরা ক্যাম্পাসকে বিদায় জানাতে হবে। ভাবলে বুকের ভেতরটা শিউরে ওঠে। বিয়োগ বেদনায় আচ্ছন্ন হয়। এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে যেদিন ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম জবির ‘ঘ’ ইউনিটে। আমার সিট পড়েছিল আজিমপুরে। প্রচুর বৃষ্টি। ঠান্ডা বাতাস। কে যেন আকাশের বোঁটা ধরে উপুড় করে দিয়েছিল? বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু হয়ে পরীক্ষার হলে বসেছিলাম। কোনোমতে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তারপর তো চান্স পেয়ে গেলাম! আমার আনন্দ ঠেকায় কে? সঙ্গে পরিবারের আনন্দ। সবমিলে একাকার। এরপর জবির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও স্বনামধন্য বিভাগ সমাজকর্মে ভর্তি হলাম। সমাজকর্মে ভর্তি হওয়ার পর অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো। একটু-আধটু ঘনিষ্ঠতাও। সময় এগুতে বিভাগের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য বিভাগের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠল। বিশেষ করে যারা সংস্কৃতিমনা তাদের সঙ্গে। উঠতে বসতে আড্ডা আর খুনশুটি। রাজনীতি, সাহিত্যাঙ্গন, চলচিত্রাঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, সমসাময়িক সমাজব্যবস্থা-আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু। আলোচনা একবার শুরু হলে শেষ হতে চাইত না। বুকের ভেতরে জমানো কথাগুলো উগরে দিতাম। ক্রমাগত সেসব স্মৃতি অতীত হয়ে যাচ্ছে। কতকটা ধূসরও। আমরা যারা অনার্স শেষ করেছি, ক্রমে ক্রমে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।
