স্পোর্টস ডেস্ক
শেষ ১০ বছরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে দ্বৈরথটা তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। যার ছাপ পড়েছিল শেষ এক দশকের বর্ষসেরা ফুটবলারের মঞ্চেও। গত বছর লুকা মদ্রিচ এ দ্বৈতরাজে ভাগ বসালেও এবার আবারও শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেয়েছেন মেসি। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো পুরস্কারটি জিতে বার্সা অধিনায়ক জানালেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য ঠেকছে তার কাছেও! ’
মেসি গত সোমবার পুরস্কার নিতে গিয়ে বলেন, ‘যেসব সাংবাদিকরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং চেয়েছেন যে আমি এই পুরস্কার জিতি, তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার সতীর্থদের অনেক অনেক ধন্যবাদ যারা সত্যি এই পুরস্কার জয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছে। এটা অবিশ্বাস্য, সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
ফুটবলের বাইরে মেসি পুরোপুরিই পরিবার-অন্তপ্রাণ মানুষ। আগের পাঁচবার ব্যালন ডি অর জয়ের সময় দুই ছেলে থিয়াগো আর মাতেও উপস্থিত ছিল না। শেষবার তো জন্মই হয়নি ছোটোছেলে কিরোর! এবার বড়ো দুজন আর স্ত্রী রুকোজ্জো আন্তোনেল্লার উপস্থিতিই এটাকে ভিন্নতা এনে দিয়েছে, অভিমত মেসির।
বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আমার ষষ্ঠ ব্যালন ডি অর। এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা মুহূর্ত, যেটা আমি আমার পরিবার এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করছি।’
মেসি জানালেন, ‘সাফল্যের বড়ো অনুপ্রেরণাটা এসেছে স্ত্রী রুকোজ্জোর কাছ থেকেই। ফরোয়ার্ডটি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার স্ত্রী বলে, কখনো স্বপ্ন দেখা উচিত নয় কিন্তু সবসময়ই উন্নতির চেষ্টাটা করা উচিত। উপভোগ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি ভাগ্যবান।’
বয়স ৩২ হয়ে গেছে। যে সময়টায় অনেক ফুটবলারই বুটজোড়া তুলে রাখেন। তবে অবসর চিন্তা নিয়ে এখনো ভাবেননি, এমনটাই জানালেন রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি অর জয়ী। মেসির ভাষ্য, ‘আমি আশা করি, আরো অনেক দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমি ভাগ্যবান, এটা আমি অনুভব করি। যদিও একসময় বিদায়ঘণ্টা বাজবে। খুব কঠিন এক ব্যাপারই হবে সেটা।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘কিন্তু আমার সামনে আরো কিছু সুন্দর বছর অপেক্ষা করছে। সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়। আর তাই আমি ফুটবল আর আমার পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করে যেতে চাই।’
এদিন মেসি কথা বললেন বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও। জানালেন, ‘ক্লাবের প্রতি ভালোবাসাটা এখনো অমলিন, ক্লাবের লোকজন আমাকে চেনেন। চুক্তির বাইরে কোনো ব্যাপার নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। এই ক্লাবটার প্রতি আমার যেমন অনুভূতি তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
মেসি যতক্ষণে ষষ্ঠ ব্যালন ডি অরের মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন সে সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সিরি আ র শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের পুরষ্কার নিচ্ছিলেন। তার অনুপস্থিতি অনুষ্ঠানকে ম্লান করেনি মোটেও, মত মেসির। আর্জেন্টাইনটি বলেন, ‘সে এখানে আসেনি, এর মানে তার অন্য কোনো কাজ ছিল অবশ্যই। একে অতিরঞ্জিত করার কোনো মানে হয় না। আমরা একটা দারুণ অনুষ্ঠান উপভোগ করছি।’
অন্য পুরস্কার জিতেছেন যারা
ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন (বর্ষসেরা নারী ফুটবলার) মেগান র্যাপিনো
লেভ ইয়াশিন ট্রফি (সেরা গোলরক্ষক) এলিসন বেকার
কোপা ট্রফি (সেরা উদীয়মান) ম্যাথিয়াস ডি লিখট
শেষ দশ বছরের
ব্যালন ডি’অর
জয়ীরা
n ২০১৮ লুকা মদ্রিচ
n ২০১৭ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
n ২০১৬ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
n ২০১৫ লিওনেল মেসি
n ২০১৪ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
n ২০১৩ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
n ২০১২ লিওনেল মেসি
n ২০১১ লিওনেল মেসি
n ২০১০ লিওনেল মেসি
n ২০০৯ লিওনেল মেসি
