পার্থ টেস্ট
স্পোর্টস রিপোর্টার
পার্থের নতুন টেস্টের অভিষেক টেস্টটা অস্ট্রেলিয়ার জয় দিয়েই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্তত চতুর্থ দিন শেষে সেটাই মনে হচ্ছে। অজিদের ছুঁড়ে দেয়া ২৮৭ রানের টার্গেটে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিন শেষে ৫ উইকেটে ১১২ রান করেছে ভারত। তাই ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য আরও ১৭৫ রান করতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। অস্ট্রেলিয়াকে শিকার করতে হবে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট।
পার্থের নতুন ভেন্যুতে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৩২ রান করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৫ রানে এগিয়েছিলো অজিরা। কারণ প্রথম ইনিংস থেকে ৪৩ রানের লিড পেয়েছিলো তারা। চতুর্থ দিন বাকি ৬ উইকেটে মাত্র ১১১ রান যোগ করতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামির বোলিং তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৩ রানে গুটিয়ে যায় অসিরা। ৪১ রান নিয়ে দিন শুরু করে উসমান খাজা। দ্রুতই টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পরও নিজের ইনিংসটি বড় করছিলেন খাজা। ৮ রানে শুরু করে ৩৭ রানে থেমে যান অধিনায়ক টিম পাইন। সামির তৃতীয় শিকার হন তিনি।
পাইনের বিদায়ে ক্রিজে আসেন আগের দিন আঙ্ুলে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়া অ্যারন ফিঞ্চ। তখন তার নামের পাশে ছিলো ২৫ রান। তবে ফিঞ্চকে এখানেই থামিয়ে দেন সামি। পাইন ও ফিঞ্চের শিকারের পরও থেমে থাকেননি সামি। কিছুক্ষণ বাদে বিদায় দেন খাজাকেও। ৭২ রান করে থামেন খাজা। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট নেয়ার স্বাদ পান সামি। পাঁচ উইকেট শিকারের পর নাথান লিঁওকে নিজের ষষ্ঠ শিকার বানান সামি। তাই দু’শ’র পরপরই গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু শেষ উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার লিডকে ২৮৭ রানে নিয়ে যান মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। স্টার্ককে শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ২৪৩ রানে অলআউট করে দেয় ভারত। স্টার্ক ১৪ রানে থামলেও ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন হ্যাজেলউড। ভারতের সামি ৫৬ রানে ৬ উইকেট নেন। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। জয়ের জন্য ২৮৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে বোল্ড হন ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুল। রানের খাতা খোলার আগে স্টার্কের বলে আউট হন তিনি।
উইকেট গিয়ে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন তিন নম্বরে নামা চেতেশ্বর পূজারাও। ৪ রান করে হ্যাজেলউডের বলে আউট হন তিনি। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানো ধাক্কাটা সামলে উঠার চেষ্টা করেছিলেন আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ৩৫ রানের জুটিও গড়েন তারা। তবে দলীয় ৪৮ রানে কোহলি ও ৫৫ রানে বিজয়কে বিদায় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাতে ম্যাচের লাগাম তুলে দেন স্পিনার নাথান লিঁও। কোহলি ১৭ ও বিজয় ২০ রান করেন। ফলে ৫৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ভারত।
এরপর দলের হাল ধরে ভালোভাবেই সামনের দিকে এগোতে থাকেন আজিঙ্কা রাহানে ও হানুমা বিহারি। কিন্তু তাদের বেশিদূর যেতে দেননি হ্যাজেলউড। ৩০ রানে থাকা রাহানে শিকার করেন তিনি। ফলে দলীয় ৯৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ভারত। এই অবস্থায় আরো একটা উইকেট হারালেই পরাজয়টা নিশ্চিত হয়ে যেতো ভারতের। তবে দিনের শেষ বেলায় আর কোনো বিপদ আসতে দেননি বিহারি ও উইকেটরক্ষক ঋশব পান্থ। বিহারি ২৪ ও পান্থ ৯ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার হ্যাজেলউড ও লিঁও দু’টি করে উইকেট নেন।
