অবশেষে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের একটি টিম নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে যায়। অধিদপ্তর কার্যালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, দুদক প্রাথমিকভাবে সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা হলেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বেগম তন্দ্রা শিকদার, বর্তমান সহকারী পরিচালক শিরিনা আক্তার, হিসাব রক্ষক হান্নান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, কো-অর্ডিনেটর খায়রুল কবীর, বর্তমান মহাপরিচালকের পিএ আব্দুল আজিজ ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত বেসরকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স খান মো. মোরশেদ আলম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী আরো গভীরতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দুদক। প্রসঙ্গত, এই সাত কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে বদলি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে তাদের আবার উক্ত অধিদপ্তরে বদলি করে আনা হয়।
জানা গেছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি অনেকটা ওপেন সিক্রেট। এখানে নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতি সবক্ষেত্রে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। অর্থের বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নার্সদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার পিএ নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি জামায়াত সমর্থিত হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া এক কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি। ঐ কর্মকর্তা দম্ভোক্তি করে সম্প্রতি বলেন, হত্যা করলে কী হয়? টাকা দিলে কিছুই হয় না। রাজধানীর টোলারবাগে তার বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এগুলো ছাড়াও নিয়োগ-বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নার্সিং সংগঠনের একাধিক নেতা।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর ছবিকেও অবহেলা করছেন নার্সিং অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা। ১৯৭২ সালে বাণী সম্বলিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিটি প্রথমে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের রুমে রাখা ছিল। পরে সেখান থেকে সরিয়ে একজন উপপরিচালকের রুমে রাখা হয় ছবিটি। ঐ উপপরিচালক জামায়াত সমর্থিক নার্সিং সংগঠনের নেতা। পরে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি ঐ উপপরিচালকের রুমে রাথরুমের পাশে উলটো করে রাখা হয়। ইতিমধ্যে তার রুম থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি অন্যত্র সরিয়ে অযত্ন-অবহেলায় রাখা হয়েছে।
