খালেদা জিয়ার জামিন ঘিরে উত্তেজনা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৩

আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের ওপর শুনানি ও আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার জামিনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।  হুমকি-পালটা হুমকি চলছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন না হলে শুধু বিএনপি কেন, সমাজের অপরাপর অংশ থেকেও আন্দোলনের দাবি উঠবে। সরকারের পতনের মধ্য দিয়েই এর একমাত্র সমাধান নিহিত রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামিন না হলে মনে করব, সরকার আমাদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপির জোট ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে বিএনপির আন্দোলনের হুমকির প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও পালটা হুমকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে যদি বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ১৪ দলের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করতে পাড়ায় মহল্ল­ায় ১৪ দল প্রস্তুত থাকবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন।

গত ২৮ নভেম্বর শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা স্বাস্থ্যগত ও মানবিক কারণে তার জামিন চাওয়ার প্রেক্ষিতে আজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট দাখিল করার আদেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া গতকাল রাতে ইত্তেফাককে বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদন আপিল বিভাগে প্রেরণ করা হবে। এজন্য হাইকোর্টের কাছে আজ সময় প্রার্থনা করা হবে।

এদিকে বিএনপিসূত্র জানিয়েছে, বেগম জিয়ার জামিন হবে না এমনটা ধরে নিয়েই বিএনপি আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে। গত শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও সরকার পতনের আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, জামিন না হলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।