‘যুবলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে হবে’

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩২

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করতে হবে। বুধবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হলরুমে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, শেখ ফজলুল হক মনি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের যুবলীগকে সেই আদর্শ ফিরিয়ে আনতে হবে।

শেখ সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তি জনগণ। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে নিঃস্বার্থে যারা রাজনীতি করে তারাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। সুবিধাবাদীরা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের পাশে থাকবে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে সুবিধাবাদীরা বঙ্গবন্ধুকে দেখতে আসেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনার সময় সাবেক সেনা প্রধান কে এম সফিউল্লাহ এবং জিয়াউর রহমান এগিয়ে আসেনি। তারা খন্দকার মুস্তাকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। শেখ সেলিম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার লক্ষ্যে যখন কাজ শুরু করলেন তখন অতিবিপ্লবীরা জাসদ সৃষ্টি করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে। তারা ছাত্রলীগকে বিভক্ত করে। তারা আসলে বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের ভালো চায়নি।  তাদের কারণে দেশ ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘আজ ডিসেম্বর ২০১৯ আমার বাবা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮০তম জন্মদিন। ঠিক এই দিনে ১৯৩৯ সালে তাঁর জন্ম হয় টুঙ্গিপাড়ায়, সেখানে জন্ম নিয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার বাবা খুব অল্প বয়সেই তার মামা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ ও নেতৃত্ব বুকে ধারণ করে বাঙালি জাতির অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সম্পূর্ণভাবে জড়িত হয়ে যায়। ২১ বছর বয়সে ১৯৬০ সালে তিনি নির্বাচিত হন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। যে দায়িত্ব তিনি পালন করেন ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত। ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত থাকার সময় তিনি গড়ে উঠেন আইউববিরোধী রাজনীতির একজন প্রতিবাদী রাজপথের সৈনিক হিসেবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর দ্বারা নির্ধারিত ৬ দফা যা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত, তা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করেছেন তিনি। বাবা মনে করতেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়, যে দায়িত্ব মানুষের আর্থসামাজিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে নিয়োগ করা উচিত।’ যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বলেছেন, সত্ থেকে নুন-ভাত খাওয়া ভালো, অসত্ হয়ে বিরিয়ানি খাওয়া থেকে। এ কথাটা এখন থেকে সকল যুবলীগ কর্মীদের বুকে ধারণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ রেজাউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। সভা সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।