ঝিনাইদহে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়!

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০০

ইট তৈরির মৌসুম শুরুর পর ঝিনাইদহ জেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) বিক্রি বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে জমির ঊর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। ফসল উত্পাদন কমে যাচ্ছে। চাষিদের অভাবের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দালাল গ্রামে গ্রামে ঘুরে নামমাত্র দামে জমির টপ সয়েল কিনে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। জেলায় ১০০টির ওপর ইটভাটা আছে। বেশির ভাগ ভাটার নিজস্ব জমিতে ইট কাটার মতো মাটি শেষ হয়ে গেছে।

এখন তারা মাটি কিনে ইট তৈরি করছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি ট্রাক, ট্রাক্টর-ট্রলি ও অন্যান্য যানে করে জমি থেকে কাটা টপ সয়েল ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। তারা জমি থেকে এক-দেড় ফুট গভীর করে টপ সয়েল কাটছেন। 

একজন কৃষক জানান, তার টাকার দরকার হয়েছিল।  প্রতি বর্গফুট মাটি দুই টাকা দরে বিক্রি করেছেন। চাষিরা জানান, ইট তৈরির মৌসুম শুরু হলে মাটি কেনাবেচার দালালরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মাটি কিনছে। শৈলকুপায় একজন মাটির কারবারি শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতি বর্গফুট মাটি চাষির কাছ থেকে দুই টাকা দরে কিনেন। এ মাটি ভাটা মালিকদের কাছে প্রতি বর্গফুট সাড়ে ছয় টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। তিনি আরো জানান, ১০ লাখ বর্গফুট মাটি আগাম কিনে রেখেছেন।

শৈলকুপার ইটভাটা মালিক খলিলুর রহমান জানান, গত বছর প্রতি বর্গফুট মাটি ছয় টাকা দরে কিনেছেন। এবার কিনছেন সাড়ে ছয় টাকা বর্গফুট দরে। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম ফোটন জানান, ঝিনাইদহ জেলায় ১০০টির বেশি ইটভাটা আছে। অধিকাংশ ভাটা মালিক মাটি কিনে ইট তৈরি করছেন।

গত বছরের চেয়ে মাটির দামও চড়ে গেছে। ঝিনাইদহের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, টপ সয়েল ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। টপ সয়েল বিক্রি করলে জমির ঊর্বরতা হারায়। আর ঊর্বরতা ফিরিয়ে আনতে অনেকদিন সময় লাগে। এজন্য জৈবসার ব্যবহার করতে হয়। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের টপ সয়েল বিক্রি না করতে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। জমির চরিত্র পরিবর্তন করা অপরাধ।