সৈয়দপুরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ে আজ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

আজ ১৮ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের এদিনে শত্রুমুক্ত হয় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর। সারাদেশে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় উত্সব শুরু হলেও অবাঙালি (বিহারি) অধ্যুষিত এ শহরে দু’দিন পর স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ে। মুক্তিযোদ্ধা জিকরুল হক জানান, ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে বিজয় উত্সব শুরু হয়। ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে বিকেল ৪.৩১ মিনিটে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। অথচ সৈয়দপুর শহর তখনও ছিল অবরুদ্ধ। শহরে দেখা যাচ্ছিল পাকিস্তানিদের দৌরাত্ম্য। আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ অবলম্বনকারী বিহারিরা পরাজয় মেনে নিতে পারছিল না। তারা বাঙালিদের উপর চোরাগুপ্তা হামলা অব্যাহত রাখে।

ভারতে হিমকুমারী সেনানিবাস থেকে মিত্রবাহিনী লে. কর্ণেল জোগালের নেতৃত্বে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করে ১৮ ডিসেম্বর। সকাল ১০টার দিকে মিত্রবাহিনী শহরের উত্তরদিক থেকে এসে সৈয়দপুর থানায় প্রবেশ করে। তারা থানার পতাকাস্তম্ভে উড়তে থাকা পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সেখানে উড়িয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ১৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী শহরে প্রবেশের পর পর তত্কালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী ওমর আলীর নেতৃত্বে বিজয় মিছিল বের করা হয়। এরপর গ্রাম থেকে ছুটে আসতে থাকেন হাজার হাজার বাঙালি। মিত্রবাহিনী শহরে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত হলে অবাঙালিদের উপর কোনো প্রকার হামলা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে নিরাপদে ছিল বিহারিরা। পরে কর্নেল জোগালের নেতৃত্বে মিলিটারি কনভয় সৈয়দপুর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিনা বাধায় বিকেলে সৈয়দপুর বিমানবন্দর এলাকায় মিত্রবাহিনীর কাছে তাদের অস্ত্র অর্পণ করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য শহরের ডাকবাংলোর বিপরীতে স্মৃতিস্তম্ভ ও গোলাহ বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও আজও শেষ হয়নি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি উপজেলায় নতুন এসেছি। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজটি সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এবারে প্রথম বিজয় দিবসে অসমাপ্ত স্মৃতিসৌধই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

সৈয়দপুর মুক্ত দিবসে কর্মসূচি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল জানান, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে সৈয়দপুরের চার হাজার মানুষ তাদের জীবন উত্সর্গ করেছেন।