বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি ইউনিটের’ মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া পরীক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রেজিস্টার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুর আলম সিদ্দিককে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. সানজিদ ইসলাম খান। কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিনিয়র শিক্ষকদের কমিটিতে না রাখায় এই কমিটির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমরা এই তদন্ত কমিটি মানিনা। এতবড় একটি বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রমে একজন প্রভাষক কিভাবে সদস্য সচিব হয়? বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি করতে হবে। প্রয়োজনে ইউজিসি সদস্যগণের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি করতে হবে।’
আরও পড়ুন: সম্মেলনের আগেই সাধারণ সম্পাদক দাবি, আওয়ামী লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার আবু হেনা মুস্তাফা কামালের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাইস চ্যান্সেলর এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি আমাকে অফিসিয়াল ভার্সন দিতে নিষেধ করেছেন।’
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় দুইটি ইউনিটে ফেল করলেও ‘বি’ ইউনিটে (সামাজিক বিজ্ঞান) মানবিক থেকে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হন এক ভর্তিচ্ছু। ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষকের বোন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক। বৃহস্পতিবার রেজিস্টার কর্নেল আবু হেনা মুস্তাফা কামালের কাছে শিক্ষকগণ এ সংক্রান্ত একটি লিখিত দাবি পেশ করলে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ইত্তেফাক/এসি
